জানুয়ারি ২৪, ২০২২ ০৪:২২ পূর্বাহ্ন



জানুয়ারী / ২৪ / ২০২২


বিশেষ প্রতিনিধি

আপডেটের : জানুয়ারী / ২৪ / ২০২২

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সীমানা বাড়ল: বাকি ওয়ার্ড বিভক্তির প্রক্রিয়া

 সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) সীমানা বর্ধিতকরণ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হেয়েছে। এর ফলে সিসিকের সীমানা বেড়ে দাঁড়াল ৫৯.৫০ বর্গ কিলোমিটারে। গেজেট প্রকাশিত হলেও নতুন ওয়ার্ড বিভক্তির প্রক্রিয়া এখনো বাকি আছে।


রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গত মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের(এলজিআরডি) স্থানীয় সরকার বিভাগ (সিটি কর্পোরেশন-১)-এর উপসচিব নুমেরী জামানের স্বাক্ষরে গেজেটটি প্রকাশিত হয়।


মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সিসিকের সীমানা বর্ধিতকরণ সংক্রান্ত গেজেট হাতে পাবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, গেজেট প্রকাশের পর সিটি কর্পোরেশন এখন ওয়ার্ড বিভক্তিকরণের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখবে। এরপর মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে চিঠি দেয়া হবে।। চিঠি প্রাপ্তির পর জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে শুনানী শেষে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠাবে । মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর বিভক্ত হবে ওয়ার্ড।


সিসিকের চিফ ইঞ্জিনিয়ার নূর আজিজুর রহমান জানান, একটি ওয়ার্ডের সাথে অন্য ওয়ার্ডের জনসংখ্যার ভেরিয়েশন (রুপান্তর) হবে শতকরা ১০ ভাগ। এর ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক ওয়ার্ড বিভক্ত করবেন। বিভক্তির পর জেলা প্রশাসক গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবেন। এ বিষয়ে শুনানীর পর জেলা প্রশাসক তার মতামতসহ প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবেন। সেখান থেকে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত গ্রহণ শেষে ওয়ার্ড বিভক্তিকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়।


সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সরকারের যুগ্ম সচিব বিধায়ক রায় চৌধুরী জানান, ঢাকা থেকে গত মঙ্গলবার সিসিকের চিফ ইঞ্জিনিয়ার গেজেট প্রকাশিত হবার বিষয়টি জানিয়েছেন। এর বাইরে তিনি আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে, কয়েকদিন আগে তিনি এ প্রতিবেদককে জানিয়েছিলেন, নিকারের বৈঠকে সীমানা বর্ধিতকরণ অনুমোদনের বিষয়টি ছিল একটি বড় কাজ। এখানকার যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পাদন করবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।


সিসিক সূত্র জানায়, কর্পোরেশনের বর্তমান আয়তন ২৬ দশমিক ৫০ বর্গ কি.মি.। নতুন সম্প্রসারিত এলাকার আয়তন ৩৩ বর্গ কি.মি.। সম্প্রসারণের পর সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মোট আয়তন দাঁড়িয়েছে ৫৯.৫০ বর্গ কি.মি.-এ। এতে সিটি কর্পোরেশনের সাথে সিলেট সদর ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ২৮টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। যেসব এলাকা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে-সিলেট সদর ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার যেসব এলাকা সিসিকে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- সদর উপজেলার টুকেরবাজার ইউনিয়নের কুমারগাঁও মৌজা, জেএল নম্বর ৮০, মইয়ারচর-৮১ (দাগ নম্বর ৭৭, ৮২, ৮৩, ৮৯, ৯০, ৯১ ব্যতিত) টুকেরবাজার ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ভূমি, খুরুমখলা শাহপুর-৮২, আখালিয়া-৮৮ (পূর্বে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত অংশ ব্যতিত অবশিষ্ট ভূমি) ও ঘোপাল উত্তর-৮৩ (টুকেরবাজার ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত অংশ), খাদিমনগর ইউনিয়নের কুমারগাঁও-৮০, খাদিমপাড়া ইউনিয়নের বহর-৭০, সাদিপুর ১ম খন্ড-৯৩ (পূর্বে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত অংশ ব্যতিত অবশিষ্ট ভূমি), টিলাগড়-৯৫, দেবপুর-৯৬ (পূর্বে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত অংশ ব্যতিত অবশিষ্ট ভূমি), কসবা কুইটুক-১০০, সুলতানপুর চক-১০১, পেশনেওয়াজ-১০২ ও হাজিরাই-১০৩ (সেনানিবাসের জন্য অধিগ্রহণকৃত ভূমি ব্যতিত), টুলটিকর ইউনিয়নের সাদিপুর ১ম খন্ড-৯৩ (পূর্বে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত অংশ ব্যতিত অবশিষ্ট ভূমি), টিলাগড়-৯৫ ও দেবপুর ৯৬ (পূর্বে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত অংশ ব্যতিত অবশিষ্ট ভূমি), দক্ষিণ সুরমার কুচাই ইউনিয়নের পশ্চিমভাগ-১০৪, কুচাই-১০৫, পালপুর-১০৬, হবিনন্দি-১০৭ (পূর্বে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত অংশ ব্যতিত অবশিষ্ট ভূমি), মনিপুর-১০৮ (পূর্বে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত অংশ ব্যতিত অবশিষ্ট ভূমি), আলমপুর-১০৯ (পূর্বে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত অংশ ব্যতিত অবশিষ্ট ভূমি), গোটাটিকর-১১০ (পূর্বে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত অংশ ব্যতিত অবশিষ্ট ভূমি), রুগনপুর-১২৭, তৈয়ব সুলতান-১২৮ ও শ্রীরামপুর-১২৯, বরইকান্দি ইউনিয়নের পিরিজপুর-১১৪, ধরাধরপুর-১১৫, বরইকান্দি-১১৬ (পূর্বে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত অংশ ব্যতিত অবশিষ্ট ভূমি) ও গোধরাইল-১২৬ (পূর্বে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত অংশ ব্যতিত অবশিষ্ট ভূমি), তেতলি ইউনিয়নের ধরাধরপুর-১১৫, বরইকান্দি-১১৬, (পূর্বে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত অংশ ব্যতিত অবশিষ্ট ভূমি) ও বলদী-১২৫ (আংশিক) (দাগ নম্বর ২১৯৯-২৩৪৯, ৩৫০৯-৩৫১১, ৩৫১৩, ৩৫৩৫)।

সিলেট