অক্টোবর ২৫, ২০২১ ০৪:৫৫ অপরাহ্ন



অক্টোবর / ২৫ / ২০২১


সিলেটের সকাল রিপোর্ট:

আপডেটের : অক্টোবর / ২৫ / ২০২১

এম সি কলেজে নববধূ গণধর্ষণের এক বছর পূর্তি আজ

দেশে-বিদেশে বহুল আলোচিত এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলো আজ। 

এদিকে, স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনার দু’টি মামলা দ্রæত বিচার ট্রাইব্যুনালে প্রেরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাবও পাঠানো হয়। উচ্চ আদালতের আদেশে গণধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনের দু’টি মামলার বিচার কার্যক্রম একই আদালতে এক সাথে চলবে । এজন্যে নতুন করে মামলার অভিযোগও গঠন করা হবে। তবে, আগামী ধার্য্য তারিখে কোন আদালতে নতুন করে অভিযোগ গঠন করা হবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। 


বাদীপক্ষের আইনজীবী প্যানেলের প্রধান এডভোকেট শহিদুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন,  কয়েক মাস আগে মামলা দু’টি দ্রæত বিচার ট্রাইব্যুনালে প্রেরণের জন্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছি। উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গণধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনের দু’টি মামলার বিচার হবে একই সাথে এবং একই আদালতে। এজন্যে নতুন করে অভিযোগ গঠন করতে হবে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি এডভোকেট রাশিদা সাঈদা খানম উচ্চ আদালতের আদেশের ফলে নতুন করে অভিযোগ গঠন করার কথা নিশ্চিত করেন। তবে, দ্রæত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দু’টি প্রেরণের ব্যাপারে তার কাছে কোনো তথ্য নেই বলে তিনি জানান।


যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র 

আলোচিত এই গণধর্ষণের ঘটনায় সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার চান্দাইপাড়ার তাহিদ মিয়ার পুত্র সাইফুর রহমান (২৮), হবিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার বাগুনীপাড়ার শাহ জাহাঙ্গির মিয়ার পুত্র শাহ মো মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার উমেদনগরের মৃত রফিকুল ইসলামের পুত্র তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), জকিগঞ্জের আটগ্রামের মৃত অমলেন্দু লস্কর ওরফে কানু লস্করের পুত্র অর্জুন লস্কর (২৬), দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুরের দেলোয়ার হোসেনের পুত্র রবিউল ইসলাম (২৫), কানাইঘাট উপজেলার লামা দলইকান্দির (গাছবাড়ী) সালিক আহমদের পুত্র মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫), সিলেট নগরীর গোলাপবাগ আবাসিক এলাকার (বাসা নং-৭৬) মৃত সোনা মিয়ার পুত্র আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল (২৬) ও বিয়ানীবাজার উপজেলার নটেশ্বর গ্রামের মৃত ফয়জুল ইসলামের পুত্র মিজবাউল ইসলাম রাজনকে (২৭) অভিযুক্ত করে দন্ডবিধির ৩৪২/৩২৩/৩৭৯/৩৮৫/৩৪ ধারা তৎসহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধনী, ২০০৩) এর /৭/৯/(৩)৩০ ধারায় অভিযোগপত্র গত বছরের ৩ ডিসেম্বর আদালতে জমা দেয় পুলিশ। এতে ৫২ জনকে সাক্ষী রাখা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য রাজন ঘটনার ২ মাস ৮ দিন পর ১৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রটি আদালতে জমা দেন। গ্রেফতারকৃত এই ৮ আসামীর সকলেই অকপটে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয়। ৮ আসামীর মধ্যে সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক ও অর্জুন লস্কর, মিজবাহুল ইসলাম রাজন ও আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ১৯ বছর বয়সী ওই নববধূকে গণধর্ষণ করে। রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাসুম ধর্ষণে সহযোগিতা করে। ৮ আসামীর সকলেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিল। তারা টিলগড় গ্রæপে সক্রিয় ছিল বলেও সূত্র জানিয়েছে। বর্তমানে ৮ আসামী সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছে।

ভয়ঙ্কর সেই সন্ধ্যা

গেল বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলে দক্ষিণ সুরমার জৈনপুরের ২৪ বছর বয়সী এক যুবক তার ১৯ বছর বয়সী নববিবাহিতা স্ত্রীকে নিয়ে প্রাইভেটকারযোগে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে ঘুরতে যান। এর আগে শাহপরান (রহঃ) মাজারও ঘুরে আসেন তারা। সন্ধ্যার পরে এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে তারা থামেন । এ সময় কয়েক যুবক ওই স্বামী ও তার স্ত্রীকে ঘিরে ধরে। এক পর্যায়ে প্রাইভেটকারসহ তাদেরকে জোরপূর্বক জিম্মি করে কলেজের ছাত্রাবাসের অভ্যন্তরে নিয়ে যায় । এরপর স্বামীকে আটকে রেখে ছাত্রাবাসের ৭ নম্বর বøকের ৫ম তলা বিল্ডিং এর সামনে প্রাইভেটকারের মধ্যেই গৃহবধূকে ধর্ষণ করে। তারা দম্পতির সাথে থাকা টাকা, স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আটকে রাখে তাদের প্রাইভেট কারও। ছাত্রাবাস থেকে টিলাগড় পয়েন্টে এসে যুবকটি পুলিশে ফোন দেন। পুলিশ আসতে বেশ সময়ক্ষেপণ করার সুযোগ পেয়ে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ নির্যাতিতাকে ওসমানী হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করে। ঐ রাতেই নির্যাতিতার স্বামী মাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৩-৪ জনকে আসামী করে শাহপরান থানায় মামলা করেন। শাহপরান থানার মামলা নং- ২১। তারিখ-২৬/০৯/২০২১।

মামলা দায়েরের পর ঘটনাস্থল এলাকার শাহপরান থানা পুলিশ,  মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কিংবা সিলেট মহানগর পুলিশ এজাহারভুক্ত কোন আসামীকেই গ্রেফতার করতে পারেনি। র‌্যাব ও সিলেট রেঞ্জের অধীনস্থ পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করে ।


সিলেট