জুলাই ২৫, ২০২১ ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন



জুলাই / ২৫ / ২০২১


সকাল ডেস্ক :

আপডেটের : জুলাই / ২৫ / ২০২১

আবারও রহস্যময় ‘হাভানা সিনড্রোমের’ হানা

বিভিন্ন দেশে কর্মরত আমেরিকান কূটনীতিকরা আবারও কথিত 'হাভানা সিনড্রোমে'র উপসর্গে ভুগছেন বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, সংখ্যাটি সবচেয়ে বেশি অস্ট্রিয়ায়। রাজধানী ভিয়েনায় গত ছয় মাসে ২০ জনের বেশি কর্মকর্তা 'মস্তিষ্কের রোগে' আক্রান্ত হয়েছেন।

রোগের উপসর্গের সঙ্গে মিল রয়েছে রহস্যময় হাভানা সিনড্রোমের উপসর্গের।

আমেরিকান কূটনীতিক ও অন্যান্য কর্মীদের একের পর এক অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।

রোগটির কারণ জানা যায়নি এখনও। তবে বেতার তরঙ্গের মতো এক ধরনের বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গের বিকিরণের সংস্পর্শে রোগটি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীদের, যা প্রাকৃতিকভাবে সম্ভব নয়।

রোগটির অস্তিত্ব প্রথম শনাক্ত হয় ২০১৬-১৭ মালে কিউবায়।

সে সময় কিউবার রাজধানী হাভানায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কূটনীতিকরা ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, দেহের ভারসাম্য হারানো, কানে কম শোনা, উদ্বেগসহ বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত হন।

কিছু চিন্তা করতে গেলে মনোনিবেশ বা গুছিয়ে চিন্তা করার জোর পাচ্ছেন না বলেও জানিয়েছিলেন তারা, যেটিকে আখ্যায়িত করা হচ্ছিল ‘কগনিটিভ ফগ’ বলে।

ওই ঘটনায় কিউবার বিরুদ্ধে ‘সনিক অ্যাটাক’ বা ধ্বনিতরঙ্গ ব্যবহার করে হামলার অভিযোগ তুলেছিল যুক্তরাষ্ট্র। অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিল কিউবা।

বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছিল সে সময়।

পরে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এক অ্যাকাডেমিক গবেষণায় বলা হয়, অসুস্থ হয়ে পড়া ওই কূটনীতিকদের ‘মস্তিষ্কে অস্বাভাবিকতা’ দেখা দিয়েছিল। ওই প্রতিবেদনটিও প্রত্যাখ্যান করেছে হাভানা।

ভিয়েনায় কর্মরত আমেরিকান কূটনীতিকদের মধ্যেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়ার খবর গত শুক্রবার প্রথম প্রকাশ করে নিউ ইয়র্কার ম্যাগাজিন। পরে বিষয়টি নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চলছে বলেও জানানো হয়।

এ বিষয়ে অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, রহস্য উদঘাটনে যৌথভাবে কাজ করছে ওয়াশিংটন ও ভিয়েনা।

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ভিয়েনা। গুপ্তচরবৃত্তির ‘হটস্পট’ হিসেবেও ভাবমূর্তি রয়েছে ভিয়েনার। বিশেষ করে স্নায়ু যুদ্ধের সময় গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের কেন্দ্র ছিল শহরটি।

যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিভিন্ন দেশের বড় পরিসরে কূটনৈতিক উপস্থিতি রয়েছে ভিয়েনায়।

বাতিলকৃত ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তিতে ফেরা নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ বৈঠকে বর্তমানে মধ্যস্থতা করছে অস্ট্রিয়া। আলোচনা চলছে ভিয়েনাতেই।

আরও কিছু দেশেও কূটনীতিকদের মধ্যে হাভানা সিনড্রোমের উপসর্গ দেখা গেছে। কিন্তু হাভানার পর ভিয়েনাতে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আন্তর্জাতিক