এক যুগ আগের আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়

সিলেটের সকাল ডেস্ক ।। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার কথা কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এক যুগ আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়। আজকের বাংলাদেশ এক বদলে যাওয়া বাংলাদেশ।

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশের জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করা উপলক্ষে শনিবার (ফেব্রুয়ারি ২৭) বিকেলে প্রেস কনফারেন্সে (ভার্চ্যুয়ালি) লিখিত বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ গতকাল (২৬ ফেব্রুয়ারি) স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে। আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পূর্ণ যোগ্যতা অর্জন করেছি।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি জাতির পিতার হাতে গড়া দল আওয়ামী লীগই দেশের উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উন্নীত করল।

‘আজকের এ অর্জন আমাদের বিগত ১২ বছরের নিরলস পরিকল্পনা পরিশ্রম এবং প্রচেষ্টার ফসল। দেশের মানুষই এসব করেছেন। আমরা সরকারে থেকে শুধু নীতি সহায়তা দিয়ে সুযোগ তৈরি করেছি।’

জাতির এ অর্জন তরুণ প্রজন্মকে উৎসর্গ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তরুণরা আজকের বাংলাদেশকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ কৃতিত্ব দেশের আপামর জনসাধারণের। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এই মাইলফলক অর্জন করতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, ‘মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা এ তিন সূচকের ভিত্তিতে জাতিসংঘ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের বিষয়টি পর্যালোচনা করে।

‘২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বল্পন্নোত দেশ থেকে উত্তরণের তিনটি মানদণ্ডই খুব ভালোভাবে পূরণ করে। তারই ধারাবাহিকতায় এ বছর অনুষ্ঠিত ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় বাংলাদেশ পুনরায় সকল মানদণ্ড অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে পূরণের মাধ্যমে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করল।’

করোনাকালে অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে এখন পর্যন্ত আমরা ১ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকার ২৩টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি, যা মোট জিডিপির ৪.৪৪ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আসেন বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ রেহানা। তবে স্বাভাবিক সময়ের মতো এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। গণমাধ্যমকর্মীরা ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রান্তে, আর নিজের সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এতে যুক্ত হন সরকারপ্রধান।

-বাংলানিউজ ও নিউজবাংলা

শেয়ার করুন