কুমারগাঁও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগুন লাগার এক মাস পর নতুন ট্রান্সফরমার সংযোজন

ফাইল ছবি

আনাস হাবিব কলিন্স:সিলেট শহরতলীর কুমারগাঁওয়ের ১৩২/৩৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগুন লাগার এক মাস পর পুড়ে যাওয়া ১০/১৩ মেগাওয়াটের ৮টি ট্রান্সফরমারের স্থলে নতুন একটি ১০/১৩ মেগাওয়াটের ট্রান্সফরমার সংযোজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নতুন ট্রান্সফরমার সংযোজনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিদ্যুৎ বিভাগ সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল কাদির।
গত ১৭ নভেম্বর কুমারগাঁওয়ের ১৩২/৩৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগুন লেগে লন্ড ভন্ড হয়ে যায় সিলেটের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। এরপর থেকে অনেকটা জোড়াতালি দিয়ে স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে সিলেটের বিদ্যুত ব্যবস্থা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আগুন লাগার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করে বিদ্যুৎ বিভাগ। এ ধারাবহিকতায় দীর্ঘ এক মাস পর গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন একটি ১০/১৩ মেগাওয়াটের ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়। নতুন সংযোগ হওয়া ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে ১১ কেভি চারটি ফিডারে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ফিডারগুলোর মধ্যে কুমারগাঁও, টুকেরবাজার, বিমানবন্দর ও ওসমানী মেডিকেল ফিডার রয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট লোকজন জানান, কুমারগাঁওয়ের দুর্ঘটনার পর ‘ইমার্জেন্সী বেইজে’ বিদ্যুৎ সঞ্চালন শুরু হয়। ঢাকা থেকে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণসহ এ ব্যাপারে ঘটিত হয় দু’টি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি। এ ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন স্থানে চলতে থাকে মেরামত কাজ। এরই মধ্যে গত ১৯ ডিসেম্বর ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের ৩৩ কেভি বাসে জরুরি মেরামত ও সংরক্ষণ কাজের জন্য পুরো সিলেট নগরীর পাশাপাশি সিলেট সদর ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা (আংশিক) সঞ্চালন লাইনে মেরামত কাজ চলাকালে ঘটে আরেকটি দুর্ঘটনা। মেরামত কাজের সময় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ায় এক শ্রমিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন।
বিদ্যুৎ বিভাগ সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল কাদির জানান, কুমারগাঁওয়ের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অগ্নিকান্ডের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হবে। এতে গ্রাহকরা আরো উপকৃত হবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ১৭ নভেম্বরের অগ্নিকান্ডের পর অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় সিলেট জেলা ও মহানগরী ছাড়াও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা। দমকল বাহিনীর ৭টি ইউনিট ও বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনের প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন নেভাতে গিয়ে দমকলবাহিনীর এক সদস্য দগ্ধ হন। এ ঘটনার প্রায় ৩১ ঘন্টা পর সিলেটে বিদ্যুৎ সঞ্চালন স্বাভাবিক হলে জনমনে স্বস্তি ফিরে আসে।

শেয়ার করুন