ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ

সকাল ডেস্ক :
আজ রবিবার (২৪ জানুয়ারি) ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস। এ উপলক্ষে পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং অভ্যুত্থানে শহীদ মতিউরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। একই সঙ্গে দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচিও হাতে নিয়েছে কয়েকটি রাজনৈতিক দল।
শনিবার (২৩ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে শহীদ মতিউরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিএনপি, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ কয়েকটি দলের নেতারা। উল্লেখ্য, বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়– পাকিস্তানি সামরিক শাসন উৎখাতের লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়ন ও সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের করেন। মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন নবকুমার ইনস্টিটিউটের নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর রহমান।
বিশেষ বাণীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস আমাদের জাতীয় জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৬৯ সালের এ দিনে ছাত্র-জনতার দৃঢ় ঐক্য দীর্ঘ আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানে রূপ দিয়েছিল। ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল পশ্চিমা শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে রাজপথে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। দীর্ঘদিন ধরে এদেশের জনগণের হারানো অধিকার ফিরে পাওয়ার আন্দোলন ’৬৯-এর এই দিনে গণঅভ্যুত্থানে পরিণতি লাভ করে। সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের এ সংগ্রাম ছিল বিশ্বের সব স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা।’
’৬৯-এ স্বৈরশাসনের পতনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছিল’ উল্লেখ করেন ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতাপ্রাপ্তির প্রায় অর্ধশতাব্দী অতিক্রান্ত হলেও দেশীয় কর্তৃত্ববাদী বর্তমান স্বৈরাচার ঔপনিবেশিক প্রভুদের মতো দুঃশাসন চালাচ্ছে। বর্তমানে জনগণের নেই কোনও নাগরিক স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা ও নির্ভয়ে কথা বলার অধিকার। দেশ এখন ঘোর দুর্দিন অতিক্রম করছে।’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে ফখরুল দাবি করেন, দেশে আবারও ’৬৯-এর মতো গণঅভ্যুত্থানের পরিস্থিতি বিরাজমান।
’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের শহীদ মতিউরের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন এবং সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। তারা বলেন, ‘৬৯-এর স্বৈরশাসক জেনারেল আয়ুব শাহীর বিরুদ্ধে এদেশের সর্বস্তরের মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়ে তার পতন ঘটায়। এই দিন ঢাকার নবকুমার ইনস্টিটিউটের ছাত্র কিশোর মতিউর রহমান মল্লিকসহ অনেকে শহীদ হন।’

শেয়ার করুন