এমসি কলেজে গণধর্ষণ মামলার বিচার শুরু

সিলেটের সকাল রিপোর্ট ।। সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে নববধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৮ জনকে আসামি করে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেছেন আদালত।

রোববার (১৭ জানুয়ারি) সকালে সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোহিতুল হকের আদালতে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আলোচিত এই মামলার বিচারকাজ শুরু হলো।

এ তথ্য নিশ্চিত করেন সিলেট বিভাগীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি রাশিদা সাঈদা খানম। আদালতে মামলার ৮ আসামিই উপস্থিত ছিলেন।

আসামিরা হলেন- ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল , মিসবাউল ইসলাম রাজন মিয়া, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাসুম।

এদিকে আজ আদালতে অর্জুন লস্কর মাহবুবুর রহমান রনির জামিন এবং সাইফুর রহমান, মাহবুবুর রহমান রনি রবিউল হাসান ইসলামের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা ডিসচার্জ আবেদন করা হলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন।

আলোচিত এ মামলায় গত ৩ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের ৮ নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করে সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আবুল কাশেমের আদালতে চার্জশিট দাখিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য।

পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে দুই দফায় তারিখ পরিবর্তনের গত তারিখ ১২ জানুয়ারি অভিযোগপত্র আমলে নেন আদালতের বিচারক।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রবাসে স্বামীকে আটকে রেখে নববধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার রাতেই নির্যাতিতার স্বামী বাদী হয়ে এসএমপি শাহপরান থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও ৩ দিনের মধ্যে ৬ আসামিসহ সন্দেহভাজন আরও ২ জনকে গ্রেফতার করে করে র‌্যাব ও পুলিশ।

সন্দেহভাজন দুই আসামী হলেন- আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম রাজন মিয়া। গ্রেফতারের পর তাদের প্রত্যেককে ৫ দিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে সকলেই দায় স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি বিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

শেয়ার করুন