রায়হানের শরীরে ভোতা অস্ত্রের আঘাতই বেশি

সিলেটের সকাল রিপোর্ট ।। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হানের মৃত্যু অতিরিক্ত আঘাতের কারণেই হয়েছে এবং ভোতা অস্ত্রের আঘাতই তার শরীরে বেশি জখম বলে জানিয়েছেন ওসমানী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. মো. শামসুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে রায়হানের ২য় ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পুলিশ ব্যুরৈা অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রতিনিধি দলের কাছে হস্তান্তর করেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘দ্বিতীয় ময়না তদন্তেও প্রথম প্রতিবেদনের সামঞ্জস্য পেয়েছে ফরেনসিক মেডিকেল বোর্ড।’

এর আগে গত ১৫ অক্টোবর প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পিবিআই এর কাছে হস্তান্তর করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। ওই প্রতিবেদনে রায়হানের দেহে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় বলে ওঠে আসে। একই সাথে তার মৃত্যু অতিরিক্ত আঘাতে দেহের অভ্যন্তরে রগ ফেটে রক্তক্ষরণের কারণে হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান উদ্দিন (৩৩) নামে এক যুবক নিহত হওয়ার অভিযোগ তুলেন তার স্বজনরা। নিহত ওই যুবক সিলেটের আখালিয়ার নেহারিপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় দিন দিবাগত রাতে নিহত রায়হানের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজন আসামি করে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে পিবিআই।

পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছেন রায়হান। তবে নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পুলিশ ধরে নিয়ে নির্যাতন করে রায়হানকে হত্যা করেছে। পরিবারের অভিযোগে ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠিত করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। তদন্তে নেমে পুলিশ হেফাজতে রায়হান উদ্দিনের মৃত্যু ও নির্যাতনের প্রাথমিক সত্যতাও পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

এরপর বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। অন্য তিনজন হলেন, কনস্টেবল হারুনুর রশীদ, কনস্টেবল তৌওহিদ মিয়া, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস। একই সাথে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রত্যাহারকৃত পুলিশ সদস্যরা হল, এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী, কনস্টেবল সজিব হোসেন।

এদিকে ঘটনার পর ১৩ অক্টোবর থেকে লাপাত্তা হয়ে যান বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া। এরপর থেকে এখনও লাপাত্তা রয়েছেন ঘটনার মুল অভিযুক্ত এ পুলিশ কর্মকর্তা। এ ঘটনায় তাকে পালাতে সহায়তা ও তথ্য গোপনের অভিযোগে ওই ফাঁড়ি টু-আইস এসআই হাসান আহমদকেও সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। আর কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে ওই মামলা গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পিবিআই।

শেয়ার করুন