এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ: অভিযুক্তদের খুঁজছে পুলিশ

সিলেটের সকাল রিপোর্ট ।। সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের অভিযুক্ত ৫ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে খুঁজছে পুলিশ। ভিকটিম দম্পতির বর্ণনামতে এ সাতজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছবি ভাইরাল হয়েছে।

তবে রাত সাড়ে ৩টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি বলে জানিয়েছেন শাহপরান থানার উপর পরিদর্শক (এসআই) লিপটন পুরকায়স্থ।

আরও পড়ুন-এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে গণধর্ষণ করেছে ছাত্রলীগ কর্মীরা!

অভিযুক্ত কর্মীরা সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক রনজিত সরকারের অনুসারী বলে জানা গেছে। তারা হলেন- কলেজের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী শাহ মাহবুবুর রহমান রণি, একই কলেজের শিক্ষার্থী এম সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর এবং বহিরাগত রবিউল ইসলাম ও তারেক আহমদ।

এদের মধ্যে সাইফুর রহমানের বাড়ি বালাগঞ্জে, রবিউলের বাড়ি দিরাইয়ে, অর্জুনের বাড়ি জকিগঞ্জে, রণি হবিগঞ্জের এবং তারেক জগন্নাথপুরের বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ধর্ষিত তরুনী তার স্বামীকে নিয়ে সিলেটের এমসি কলেজে ঘুরতে আসেন। ঘুরার এক পর্যায়ে রাত ৮ টার দিকে তরুণীর স্বামী সিগারেট খাওয়ার জন্য এমসি কলেজের গেইটের বাইরে বের হন। এসময় কয়েকজন যুবক তরুণীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যেতে চান। এতে তরুণীর স্বামী প্রতিবাদ করলে তাকে মারধোর শুরু করেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। এক পর্যায়ে তরুণী ও তার স্বামীকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এমসি কলেজের হোস্টেলে নিয়ে যান। সেখানে স্বামীকে বেঁধে ছাত্রলীগের তিন-চারজন নেতাকর্মী গাড়ির ভেতরে তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।

এসময় তাদের সঙ্গে থাকা ৯০ টি মডেলের একটি প্রাইভেট কারও ছিনিয়ে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে প্রাইভেট কারটি তাদের জিম্মায় নেয় এবং তরুণীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) তে প্রেরণ করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জ্যোতির্ময় সরকার বলেন,’শুক্রবার রাতে এমসি কলেজের হোস্টেলের একটি ব্লকের রাস্তায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনায় কারা জড়িত তা এখনও জানা যায়নি তবে আমাদের তদন্ত চলছে।’ এঘটনায় এখনো মামলা দায়ের হয়নি বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন