এই সময় ওভাবে বাজেট ছেঁড়া ভালো হয়নি

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম: গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বাজেটের বিরোধিতা করা বিরোধী দলের প্রধান কাজ। সংসদে বাজেটের প্রতিটি শব্দের ভুল ধরে সংশোধনী এনে অর্থমন্ত্রীর বাজেট দেশবাসীর সামনে অসার প্রমাণিত করা এবং এমন কট্টর যুক্তি খাড়া করা যার সংশোধনী গ্রহণ না করলে সাধারণ মানুষ যাতে বুঝতে পারে সরকার গায়ের জোরে চলছে। তারা যুক্তিগ্রাহ্য কোনো কিছুই গ্রহণ করছে না। এমন সরকারের আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করে জনগণ। সেদিক থেকে বিচার করলে যে সংসদকে দেশের মানুষ ভালোভাবে স্বীকার করেনি, নির্বাচনের ওপর মানুষ আস্থা নেই সেখানে বিএনপির কয়েকজন এমপিকে দেশবাসী ধোয়া তুলসীপাতা মনে করে না। লোভ-লালসা তাদের সংসদে টেনে নিয়েছে বলে মনে করে। বিরোধী দল হিসেবে রুমিন ফারহানা প্রকাশ্য বাজেট বই ছিঁড়ে ফেলেছেন। সংসদ সদস্যের অমন ছেঁড়বার-ফাড়বার সুযোগ বা অধিকার আছে। স্বাভাবিক সময় এ কাজটি হয়তো প্রশংসাই পেত। কিন্তু করোনার মহাদুর্যোগে তাঁর এ কাজ বা তাঁর দল বিএনপির এ কাজ কোনোমতেই সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। রুমিন ফারহানার বাবা একজন যথার্থ রাজনীতিবিদ। জনাব ওলি আহাদ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দীর্ঘ সময় রাজনীতি করেছেন, হুজুর মওলানা ভাসানীর সঙ্গে করেছেন। মিল অমিল যা কিছুই থাকুক পাকিস্তানের রাজনীতিতে রুমিন ফারহানার বাবা জনাব ওলি আহাদের যথেষ্ট ভূমিকা আছে। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর বিরোধ হয়েছে আবার প্রয়োজনে পাশে দাঁড়িয়েছেন- এটা ছিল তাঁদের গণমানুষের রাজনীতি।

রুমিন ফারহানাকে আমি প্রথম হাই কোর্টে দেখেছিলাম। আমাদের প্রিয় আবদুল মতিন খসরুর জুনিয়র হিসেবে কাজ করতেন। রুমিন ফারহানা আমাকে পিতার মতো সম্মান করেন। কী কারণে সে সময় হাই কোর্টে গেছি বিষয়টা আজ লিখতে গিয়ে মনে নেই। তবে অনেক কথা মনে পড়ছে। আবদুল মতিন খসরু একসময় আইনমন্ত্রী হয়েছিলেন। তার আগে তাঁর এলাকায় সভা-সমাবেশ করতে গেছি। তাঁর বড়–রায় এক সভায় গিয়েছিলাম। সঙ্গে ছিলেন রাজাবাজারের হাজী চান খাঁ। খুব কষ্ট করে ফিরেছিলাম। তবু ভীষণ ভালো লেগেছিল। উঠতে বসতে আবদুল মতিন খসরুর সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ-কথাবার্তা হতো। ’৯৬-এর সরকারে আবদুল মতিন খসরু যখন আইনমন্ত্রী আমাদের অ্যাডভোকেট মো. সোহরাওয়ার্দীকে টাঙ্গাইলে পিপি করতে অনুরোধ করেছিলাম। প্রবীণ জননেতা মান্নান ভাই হয়তো অন্য কারও জন্য বলেছিলেন। আবদুল মতিন খসরু মান্নান ভাইকে বলেছিলেন, ‘রাজনীতিতে আমি অনেক জুনিয়র। আপনি প্রবীণ মানুষ। এমন একজন মানুষ আমাকে অনুরোধ করেছেন একমাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ছাড়া অন্য কারও কথায় আমি তাঁর কথা ফেলতে পারব না। সোহরাওয়ার্দী টাঙ্গাইলের পিপি হয়েছিলেন। ভালো না খারাপ করেছে বলতে পারব না। তবে নিজের বাসাবাড়ি বেশ ভালো করেছিলেন। তখন খারাপ লাগত। এখন দেখি যারাই জিপি, পিপি হয় সবাই নতুন বাসা করে অথবা নিজের বাসা মেরামত করে- তাই এ নিয়ে আর ভাবী না। কিন্তু আবদুল মতিন খসরু সে সময় যথেষ্ট গুরুত্ব ও সম্মান দেখিয়েছিলেন। পরে আমার মনে হয়েছে যেভাবে বড়দের সম্মান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে প্রবীণদের কোনো গুরুত্ব থাকছে না আমারও ওভাবে শুধু আবদুল মতিন খসরুকে বলা ঠিক হয়নি। কথাটা মান্নান ভাইকেও বলা উচিত ছিল। যেভাবেই হোক তাঁকে বলেকয়ে কাজটা করা উচিত ছিল। এখনো ব্যাপারটা ভাবী। কারণ বড়দের বড়রা সম্মান না দিলে আজ ছোটদের বড় হওয়ার যে দুর্বার বাসনা, যোগ্যতা থাকুক আর না থাকুক তারা আগে যাবেই। আইয়ুব খানের সময় দারোগা পুলিশ যে লতিফ সিদ্দিকীর কেশাগ্র স্পর্শ করতে পারেনি সেই লতিফ সিদ্দিকীর গাড়ি ভেঙেছে তাঁরই স্যান্ডেল টানা তাঁরই কুড়িয়ে আনা নতুন নেতারা। বিষয়গুলো কখনো ভালো লাগেনি, এখনো লাগে না।

আমার বাড়িতে তেমন রাগারাগি ঠোকাঠুকি নেই। ছেলেমেয়েরা ঝগড়া-ফ্যাসাদ করে না। আমার স্ত্রী দু-এক কথা বললেও আমার জন্য তাঁর মায়া এবং দরদের শেষ নেই। যদি কিছু বলেন তার অনেকটাই না বুঝে বলেন। আর তাঁর মন খারাপ বা রাগ কচুপাতার পানির চেয়েও ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু এই রুমিন ফারহানার জন্য আমার মেয়ে কুঁড়ি ভীষণ রাগ করেছিল। আমি রুমিন ফারহানাকে মা কুঁড়ির চাইতেও সুন্দর পরীর মতো বলেছিলাম। সে প্রায় ১৫ বছর আগে। কুঁড়িমণি ভীষণ রাগ করেছিল। আমার হাত ধরে একটা মোচড়ও দিয়েছিল। মোচড় খেয়ে বুঝেছিলাম, ঠিকই তো, আমার মস্তবড় ভুল হয়ে গেছে। কেন অমন লিখতে গেলাম- কুঁড়ির চেয়েও সুন্দর। আসলে তা তো নয়, কুঁড়ির মতো সুন্দর। আমি সেদিন বুঝেছিলাম মেয়েদের একটা আলাদা জগৎ থাকে, আলাদা চিন্তা থাকে। তাই সেদিন রুমিন ফারহানার বাজেট ছেঁড়াফাড়া সমর্থন করতে পারিনি। এই করোনার দুঃসময়ে এসব করার কোনো মানে হয় না। গত ১০০ বছরে আমরা এমন দুর্যোগ-দুর্বিপাকে পড়িনি। ইতিহাসে দেখা যায়, শতবর্ষ পরপর এ রকম দুর্যোগ আসে। এই সময় সরকার নয়, দেশের কথা চিন্তা করা দরকার, দেশের মানুষের কথা চিন্তা করা দরকার। তাই আমি এবং আমার দল সরকারকে বিব্রত করা থেকে আপনা-আপনি বিরত আছি। অন্যদেরও বিরত থাকতে অনুরোধ করেছি। ভালোয় ভালোয় আমরা করোনার এ দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে পারলে নিশ্চয়ই তখন বিবেচনা করে দেখা যাবে কী করা যায়। বেঁচে থাকলে রাজনীতি করা যাবে, বেঁচে না থাকলে রাজনীতির কোনো সুযোগ নেই। দেশ না থাকলে, দেশের মানুষ না থাকলে কাকে নিয়ে রাজনীতি হবে? তাই ধৈর্য তো ধরতেই হবে। ধৈর্যশীলকে আল্লাহ পছন্দ করেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের স্ত্রী লায়লা আরজুমান্দ বানু করোনায় আক্রান্ত হয়ে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। গাজীপুরের আ ক ম মোজাম্মেলকে বহু বছর চিনি। একজন অত্যন্ত প্রিয় জননন্দিত রাজনীতিবিদ, আমাকে অসম্ভব ভালোবাসেন। মন্ত্রীর চাইতে মন্ত্রী না থাকা অবস্থায়ই অনেক ভালো, অনেক জনপ্রিয় ছিলেন, ছিলেন ভীষণ দরদি। প্রতিটি রাজনৈতিক মানুষ ভালো স্ত্রী না পেলে দলীয় কর্মীদের নিয়ে এক পরিবারের মতো চলতে পারে না। আ ক ম মোজাম্মেল ভীষণ প্রতিকূল অবস্থায়ও বিএনপির সময় বহুদিন গাজীপুর পৌরসভার মেয়র ছিলেন। সবার জন্য ছিল তাঁর দরজা খোলা। আশপাশের আওয়ামীপন্থিরা তাঁকে আশ্রয় মনে করতেন। মন্ত্রী হওয়ায় সবাই খুব খুশি হয়েছিল। কিন্তু আদতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হওয়াটা খুব সহজ কাজ নয়। আর মন্ত্রী যেই হোক মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সরকারি প্রশাসন থাকতে গ্রামগঞ্জের হতদরিদ্র মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে হওয়ার কথা নয়। তাই বহু মানুষ তাঁর শত্রু হয়েছে। কিছু শত্রু হওয়ার হয়তো অর্থ আছে, কিন্তু বেশির ভাগের কোনো অর্থ নেই। আবার প্রায় সব মন্ত্রীর রাজনৈতিক এপিএসরা সব সময় একটু অন্যরকম হয়। সে রকম মোজাম্মেল হকের লোকও হয়েছে। এমনকি কয়েক বছর এক নাগাড়ে মাননীয় মন্ত্রীর দেহরক্ষী থাকায় কারও কারও দেমাক হয়েছে। তাই গুলি করে কাউকে মেরে এখন কারাগারে। তবে এ কথা সত্য, জীবন থাকলে জীবনের স্বাভাবিক যন্ত্রণা থাকবে। ঠিক এই সময় স্বামী-স্ত্রী দুজনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। স্ত্রীকে হারিয়ে মাননীয় মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল কতটা ব্যথিত তা আমি বুঝতে পারি। কত ঝড়-ঝঞ্ঝার মধ্যে যাতায়াত ছিল। আ ক ম মোজাম্মেল বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকীর কর্মী। কিন্তু তিনি আমাকে মান্য করেন বেশি। এজন্য আ ক ম মোজাম্মেলকে লতিফ ভাই মাঝেধ্যেই বলতেন, ‘বজ্র তোকে কী করেছে, তুই ওকে এত মান্য করিস কেন?’ তিনি বলতেন, ‘কাদের সিদ্দিকী আমাদের নেতা, মুক্তিযুদ্ধের নেতা। বঙ্গবন্ধুর জন্য তিনি যা করেছেন আমরা কেউ তাঁর ধারেকাছেও যেতে পারিনি। তাই তাঁকে সম্মান করি, আজীবন করব।’ আ ক ম মোজাম্মেল গাজীপুর পৌরসভার মেয়র থাকতে একবার খেতে গিয়েছিলাম। আমার এখনো মনে আছে, ছোট্ট একটা পাতিলে ভাত রেঁধেছিলেন। আমরা চার-পাঁচ জন খেয়েছিলাম। তরি-তরকারি এমন সুস্বাদু ছিল, যা বলবার মতো নয়। কোনো বোন তার প্রিয় ভাইকে যেভাবে আদরযত্ন করে খাওয়ায় তেমন করে খাইয়ে ছিলেন। আ ক ম মোজাম্মেল মন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর অফিসে বেশ কয়েকবার গিয়েছি। একবার রাজেন্দ্রপুরে ইকবাল সিদ্দিকীর কোনো অনুষ্ঠানে অথবা ময়মনসিংহের দিক থেকে ফিরতে তাঁর বাড়ি গিয়েছিলাম। সেদিন মন্ত্রী গাজীপুরেই ছিলেন। কেন ফোন করেছিলেন জানি না। বলেছিলেন, ‘আপনি যাওয়ার সময় আমার বাড়ি হয়ে যাবেন। আপনার বোন আপনাকে দেখতে চাচ্ছেন।’ গিয়েছিলাম। যেতে যেতেই চা-নাশতা দিতে চেয়েছিলেন। বলেছিলাম, না, বেশ ক্ষুধা লেগেছে। ঘরে যা ছিল তাই টেবিলে দিয়েছিলেন। খুবই সাধারণ তরি-তরকারি। কিন্তু খুব সুস্বাদু। স্বামী-স্ত্রী দুজনে বড় যত্ন করে খাইয়ে ছিলেন। যেমনটা করেছিলেন ভারতের সাবেক মহামান্য রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি তাঁর তালকাটরা রোডের বাড়িতে। দিদি শুভ্রা মুখার্জি ছিলেন কলকাতায়। তিনি বারবার প্রণবদাকে ফোন করছিলেন, ‘বাঘা তার বউ নিয়ে, ছেলেমেয়ে নিয়ে দিল্লি গেছে। ওদের সামনে বসে খাওয়াবে।’ প্রণবদা সে যে কি যত্ন করে আমাদের খাইয়েছিলেন তা ভাবতে আজও আনন্দ হয়। তাই হঠাৎ করে জাতীয় এই দুর্যোগে আ ক ম মোজাম্মেল হকের স্ত্রী লায়লা আরজুমান্দ বানু চলে যাওয়ায় ভীষণ আঘাত পেয়েছি। ভালো মানুষরা বোধহয় এভাবেই চলে যায়। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, আল্লাহ যেন তাঁকে বেহেশতবাসী করেন।

এই সেদিন দেশের একজন সেরা ব্যবসায়ী লতিফুর রহমান চলে গেলেন। বাংলাদেশে এখন হঠাৎ গজিয়ে ওঠা ধনবান আর লতিফুর রহমানের মধ্যে অবশ্যই বেশকিছু পার্থক্য আছে। ’৯০-এর আগে লতিফুর রহমানকে চিনতাম তবে ঘনিষ্ঠতা ছিল না। আমার কাছে মনে হয় নিজের চেষ্টায় ব্যবসা করে কত দূর যাওয়া যায় লতিফুর রহমান তার উজ্জ্বল প্রমাণ। সরকারের সঙ্গে ভাগাভাগি কিংবা কোনো কমিশন, আদম পাচার অথবা কমিশনের বেচাকেনা এসব না করে যা করার তিনি করেছেন। তিনি ঢাকা চেম্বারের অনেকবারের সভাপতি। অন্য বহু আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব-কর্তৃত্ব করেছেন। প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার তাঁর পত্রিকা। তিনি একবার এফবিসিসিআইর সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। আমাকে খুব ভরসা করতেন। তখন এফবিসিসিআইয়ে আমার বেশকিছু ভোটার ছিল। তাই একদিন হঠাৎ আমার বাসায় এসে হাজির, আমার সমর্থন চান। বলেছিলাম, আমি অন্য কাউকে সমর্থন করি। আপনাকে করতে পারব না। তবু ছোটাছুটির জন্য একটা গাড়ি এবং কিছু টাকা রেখে গিয়েছিলেন। মনে হয় সেবার ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন এফবিসিসিআইর সভাপতি হয়েছিলেন। তাঁকেই সমর্থন করেছিলাম। নির্বাচনের পর একটুও অসন্তুষ্ট হননি, বরং খুশিই হয়েছিলেন। আমার নৈতিকতা এবং সৎসাহসের অনেক প্রশংসা করেছিলেন। সেই থেকে মাঝেমধ্যেই কথা হতো। প্রয়োজনে লোকজন পাঠাতাম। তাদের অসম্ভব সম্মান করতেন, প্রয়োজন হলে সহযোগিতা করতেন। এভাবেই চলছিল বহুদিন। হঠাৎ একদিন খবরে দেখলাম তাঁর মেয়ে খুন হয়েছে। বড় লোকের যেমনি সম্মান তেমনি প্রতিষ্ঠিত লোকদের নানা যন্ত্রণা। লতিফুর রহমান তাঁর মেয়ের মৃৃত্যুতে দারুণ আঘাত পেয়েছিলেন। হঠাৎই একদিন লতিফুর রহমানের ফোন, ‘কাদের ভাই! আমার মেয়ে মারা গেল একটু খবর নিলেন না?’ ফোন পেয়ে আমি বোকা বনে গিয়েছিলাম। খুবই অপরাধী মনে হচ্ছিল। কী বলব, কোনো কিছু ভেবে পাচ্ছিলাম না। আমার নিজেরও খারাপ লাগছিল। আমরা যে বোকার মতো ভুল করি লতিফুর রহমানের মেয়ের মৃত্যুতে কোনো খবর না নেওয়া তার একটি মস্ত প্রমাণ। এরপর মাঝেধ্যেই ফোন করতাম, কথা বলতাম। এই সেদিন হঠাৎ হোলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী হামলায় তাঁর মেয়ের ঘরের নাতি নিহত হয়। লোকটি একেবারে দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছিলেন। আমাকে বলেছিলেন, ‘কাদের ভাই! আর পারছি না। এসব দেখে বড় কষ্ট হয়। দোষত্রুটি নিশ্চয়ই আছে। কিন্তু জেনেশুনে কারও কোনো ক্ষতি করিনি। একজন কর্মচারীর সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করিনি। কাউকে জানামতে ঠকাইনি। প্রথম আলো, ডেইলি স্টার পত্রিকা দুটি যারা চালায় তাদের কোনো দিন একটা কথাও বলিনি। তার পরও দেখুন আমার নাতিটা কীভাবে মারা গেল। এখন কিছুই ভালো লাগে না।’ সেই লতিফুর রহমান তাঁর গ্রামের বাড়ি চৌদ্দগ্রামে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। জন্মেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহারে, লেখাপড়া শুরু মেঘালয়ের শিলং আর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন চৌদ্দগ্রামে। শেষ শয্যা নিলেন বনানী কবরস্থানে। আল্লাহ তাঁকে বেহেশতবাসী করুন। তাঁর পরিবার-পরিজনকে এই শোক সইবার শক্তি দিন।

লেখক : রাজনীতিক।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

শেয়ার করুন