সোনাপুরে ‘সোনার ফসল’ ফলিয়ে লাভবান কৃষক

গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি ॥ সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের খাস হাওরের তীরের সোনাপুর গ্রাম। এই গ্রামের বয়স মাত্র কুড়ি বছর। এখানে বসবাস করেন কুড়িটি পরিবার। তাদের প্রধান আয়ের উৎস শাক-সব্জি চাষ আর গবাদিপশু পালন।

সর্ব প্রথম আব্দুন নুর নামের কৃষক সোনাপুরে বাড়ী তৈরী করেন। ক্রমান্বয়ে বাড়ী তৈরী করতে করতে এখন একটি গ্রামে পরিণত হয়ে গেছে সোনাপুর গ্রাম। তারা নাগরিক বেশিরভাগ সুবিধাবঞ্চিত। তাদের যোগাযোগের নাই কোন রাস্তাঘাট, পড়ালেখার জন্য নাই কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও।

শাক সব্জি উৎপাদন করলেও বাজারজাতের কোন সুবিধা নেই। তার পরও থেমে নেই এই জনগোষ্ঠি। প্রত্যেক পরিবারের শিশুরা বার্ষাকালে নৌকা আর শীতকালে পায়ে হেটে প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করে পাশ্ববর্তী খাসমৌজা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বারহাল আলিম মাদ্রাসা ও আলীরগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে থাকেন। এদিকে ওই এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পন্য কাঁধে করে বাজারজাত করে থাকেন।

শুক্রবার বিকেলে সরজমিন গিয়ে দেখা যায় পূর্বপাশে একটি জলাশয় (কুরুন্ডি বিল) আর পশ্চিম পাশে একটি ছোট নদী (হিদাইরখাল) এর তীরে তাদের বসবাস। বসতবাড়ীর আশেপাশে কয়েকশত একর জমিতে নাগা মরিচ, তরমুজ, ফরাস (সিম), টমেটু, বেগুন, ঢেড়শ ও সূর্যমুখী ফুলের চাষ। এসব সব্জি চাষ করে প্রতি মৌসুমে একেকজন কৃষক ৫ লাখ টাকা থেকে ২০লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করেন।

কৃষক ফখরুল ইসলাম, আরজদ আলী, সিরাজ উদ্দিন, আব্দুন নুর, আলা উদ্দিন, নজরুলসহ একাধিক কৃষক জানান আমরা নানামুখী প্রতিকূলতার সাথে যুদ্ধ করে এখানে বসবাস করছি। আমরা সরকারী অনেক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে যোগাযোগের কোন ব্যবস্থা নেই। একটা রাস্তা হয়ে গেলে প্রাথমিক ভাবে আমরা নিরাপদ এবং আমাদের উৎপাদনকৃত পণ্যগুলো আরও বেশি দামে বিক্রি করতে পারতাম। এছাড়া আমাদের ছেলেমেয়ে গুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে কোন সমস্যা হতনা।

কথা হয় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা সুলতান মিয়ার সাথে। তিনি বলেন সোনাপুর এলাকার কৃষিক্ষেতকে এগিয়ে নিতে আমি পর্যাপ্ত পরিমান সহযোগিতা করে যাচ্ছি। সোনাপুরে সূর্যমুখী বাগান দেখতে এসেছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক কাজী এমদাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, শুক্রবার ছুটিরদিন পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসে এই স্থান দেখে আমি খুব আনন্দিত। তিনি বলেন, এ এলাকার কৃষক অত্যন্ত পরিশ্রমী, তাদের এই উদ্যোগ নিৎসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। তাদের উন্নতির জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন