সীমিত মুসল্লিতে জুমা, রাস্তা-ঘাট একেবারে ফাঁকা

সিলেটের সকাল রিপোর্ট ।। নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে রেকর্ডসংখ্যক কম মুসল্লি নিয়ে সিলেটের প্রধান মসজিদ দরগাহে হযরত শাহজালাল (র.) জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।  নামাজ শেষে মহামারি থেকে মুক্তি কামনায় আল্লাহর দরবারে হাত তুলে মোনাজাত করেন ইমাম। এসময় মুসল্লিরা ‘আমিন’, ‘আমিন’ধ্বনিতে ডুকরে কেঁদে ওঠেন।

এর আগে জুমার নামাজের মাত্র ২০ মিনিট আগে মসজিদ খোলা হয় এবং জামাতের পর পরই মসজিদ বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার মসজিদে আজানের আগে মাইকিং করে নিজ নিজ বাসা থেকে অজু ও সুন্নত আদায় করে মসজিদে আসার ঘোষণা দেয়া হয়। প্রবাসী কেউ থাকলে যার ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকা হয়নি তাকে মসজিদে না আসার জন্য অনুরোধ করাও হয়।

শুক্রবার সরকারি নির্দেশনা মেনে ইমাম সাহেবেরাও বেশ সচেতন ভাবে পবিত্র জুম্মার নামাজ কম সময়ে জামাত সম্পন্ন করেছেন। দরগাহ জামে মসজিদে অভ্যন্তরে মুসল্লিতে পরিপূর্ণ ছিলেন। এর বাইরে মসজিদের ওপরে, চত্বরে, সিঁড়িতে কোথাও মুসল্লি ছিলেন না। মসজিদের বাইরে কিছু পুলিশ সদস্য ছাড়া রাস্তাঘাট ছিল একেবারেই ফাঁকা।

জুমার নামাজ আদায় করতে তরুণ ও যুবকরাই বেশি এসেছেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্দেশনা অনুসরণ করে অসুস্থরা মসজিদে আসেননি। মুসল্লিদের অনেকেই বাসায় সুন্নত আদায় করেই মসজিদের এসেছেন। এ সময় মুসল্লিরা মাস্ক পরা ছিলেন। নামাজ শেষ তারা দ্রুত মসজিদ ত্যাগ করেছেন।

তবে অন্যসময়ের তুলনায় পাড়া মহল্লার মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল একটু বেশি। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত সপ্তাহ থেকে জনসমাবেশ-ওয়াজ মাহফিল আয়োজনসহ জনবহুল সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রশাসন। একই সাথে করোনা ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ইমাম সাহেবেদেরও নানা নির্দেশনা দেয়।

এদিকে করোনা সংক্রমণ এড়াতে সিলেটের রাস্তা-ঘাট একেবারে ফাঁকা রয়েছে। আতঙ্কের কারণে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউই বের হচ্ছেন না। ছুটির দিন হওয়াতে বন্ধ রয়েছেন দোকান। পর্যটন এলাকায়ও নেই দর্শনার্থী। বিভিন্ন উপজেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনা সতর্কতা বিষয়ে মাইকিং করা হচ্ছে। নগরের পাশাপাশি উপজেলায়ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা টহল দিয়ে সতর্কতামূলক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সাথে করোনায় আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন