বিশ্বনাথের আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী তবারক ও তার সহযোগী ৫ দিনের রিমান্ডে

মাদক ব্যবসায়ী তবারক

সিলেটের সকাল রিপোর্ট : বিশ্বনাথের বহুল আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী তবারক ও তার সহযোগী ওয়াহিদ মিয়ার(২২) ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাকন দেব তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়া, তার অপর দুই সহযোগী বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ গ্রামের আবুল হোসেনের পুত্র সাগর হাওলাদার (২০) ও বড়শালা গ্রামের ফিরোজ জমাদ্দারের পুত্র ইমন জমাদ্দারকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদে অনুমতি দেয়া হয়েছে।
সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) ও মিডিয়া অফিসার লুৎফর রহমান তবারকের রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মাদক-চুরি-ছিনতাইসহ ১০টি মামলার আসামী তবারক। সে চিহ্নিত ‘মাদক স¤্রাট’ বলে জানান তিনি।
শনিবার ভোর রাতে বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের পাঠাকইন গ্রামের তবারক আলীর নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি পুলিশ)। এ সময় তার অপর তিন সহযোগীকে পুলিশ গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত তবারক পাঠাকইন গ্রামের মৃত আলকাছ আলীর পুত্র। তবারক আলীকে গ্রেফতারের পর পুলিশ তার বসতঘরে তল্লাশি করে শয়নকক্ষের খাটের বালিশের নিচ থেকে পাঁচ প্যাকেটে থাকা ১ হাজার পিস ও তার দেহ তল্লাশি করে শার্টের পকেটে থাকা এক প্যাকেটে ৮০

তিন সহযোগীসহ আটক তবারক

পিসসহ মোট ১ হাজার ৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। তবারকের সাথে আটক ওয়াহিদ মিয়া (২২) বশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের ইউসুফ আলীর পুত্র।
পুলিশ জানিয়েছে, তবারকের কাছ থেকে উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা। এ ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার (দক্ষিণ) এসআই সৈয়দ ইমরোজ তারেক বাদী হয়ে শনিবার বিশ্বনাথ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ১২।
জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিলেট জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএমের নির্দেশনায় নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখার (দক্ষিণ) অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) আশীষ কুমার মৈত্র সমন্বয়ে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল নিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশ্বনাথের পাঠাকইন গ্রামে তবারক আলী ওরফে ইয়াবা সুমনের গ্রামের বাড়িতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। তবারকের বিরুদ্ধে সিলেট জেলার বিশ্বনাথ থানা, সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানা, হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানায় মাদক-চুরি-ছিনতাইসহ ১০টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, গত ৫ ফেব্রæয়ারী রাত দেড়টার দিকে সিলেট থেকে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশের একটি দল ১ কোটি ৮১ লাখ টাকা মূল্যের ৬১ হাজার পিস ইয়াবাসহ ‘নাহিদা বেগম ও শাহিনা খাতুন’ নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে নাহিদা-শাহিনা হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশকে জানায়, তবারক ও তার স্ত্রী সাবিনার হয়ে তারা কাজ করে আসছে। আর তবারক-সাবিনা তাদেরকে (নাহিদা-সাবিনা) দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা বহন ও বিক্রয় করে আসছেন। এ ঘটনায় হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশের এসআই আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে গ্রেফতার হওয়া আসামীসহ তবারক ও সাবিনাকে অভিযুক্ত করে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৬ (তাং ৬.০২.২০ইং)। ওই রাতেই হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় তবারকের স্ত্রী সাবিনা। এরপর তবারক আলীকে গ্রেফতারের জন্য ডিবি পুলিশসহ একাধিক টিম গঠন করে গ্রেফতারের নির্দেশনা প্রদান করেন সিলেটের পুলিশ সুপার। যার প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর’র) নেতৃত্বে ঢাকা, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। তবে ‘মাদ্রক স¤্রাট’ তবারক আলী খুব দ্রæত নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপন করায় তাকে গ্রেফতারে পুলিশের বেগ পেতে হয়। অবশেষে গতকাল শনিবার ভোরে মাদক ব্যবসার ৩ সহযোগীসহ তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

শেয়ার করুন