ফেঞ্চুগঞ্জ কাইয়ার গুদাম বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ উন্মুক্ত ঘোষণা করলেন এমপি মাহমুদ উস সামাদ

দক্ষিণ সুরমা প্রতিনিধি : ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বাজারে পাকিস্তানি বাহিনীর ‘টর্চারসেল’ নামে খ্যাত কাইয়ার গুদামে সম্মুখে বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর বাস্তবায়নে ৩০ দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়।
বুধবার ২৫শে মার্চ রাতে প্রথম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে বধ্যভূমি উন্মুক্ত ঘোষণা করেন সাংসদ সামাদ চৌধুরী।
পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল- ‘দেশব্যাপী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর কারণে ফেঞ্চুগঞ্জ কাইয়ার গুদামের বধ্যভূমির স্মৃতিস্তম্ভ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনে না করে আমার প্রতিজ্ঞা অনুসারে যথাসময়ে কাজ শেষ করে ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে বধ্যভূমি উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো।’ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশবাসীকে সচেতন থাকার আহŸান জানান তিনি। সেই সঙ্গে সবাইকে সামাজিক দূরত্বে অবস্থান করতে বলেন।
সিলেট-৩ আসনের এমপি, ধর্ম ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহমুদ উস-সামাদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে জনসমাগম ঠেকাতে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করা হবে। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর কাইয়ার গুদামের সম্মুখে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করায় সাংসদ সামাদ চৌধুরীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ফেঞ্চুগঞ্জে গণহত্যার সাক্ষী হয়ে রয়েছে কাইয়ার গুদাম। একাত্তরের পূর্বে এটি ছিল পাটের গুদাম। গুদামটি কুশিয়ারা নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় নদী পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই সহজ ছিল। তাই মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনারা এটিকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে কাইয়ার গুদামে নিয়ে যেত। সেখানে তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন করতো পাক সেনারা। কাইয়ার গুদামের সম্মুখে নদীর তীরে মুক্তিযোদ্ধাদের গুলি করে নদীতে ভাসিয়ে দিত পাক বাহিনী। নারীদের তুলে এনে ধর্ষণ করতো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

শেয়ার করুন