করোনার দিন-রাত্রি-(এক)

তাইছির মাহমুদ,লন্ডন থেকে: একুশ মার্চ শনিবার থেকে ঘরে আছি। বেরুনোর সুযোগ নেই। বিচরণ স্থল ঘর ও গার্ডেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সকালে নামাজ, কিছুক্ষণ কুরআন তেলাওয়াত এরপর হালকা ঘুম। এরপর নাস্তা। ফেসবুকিং, টুকটাক লেখালেখি। দেশ অনলাইনে নিউজ আপলোড । টিভি দেখা। স্ত্রী সন্তানের সাথে গালগল্প। বিকেলে একবার সাইকেল নিয়ে বাইরে বেরুনো। তাও বেশি দূর নয়। গণ্ডি এক স্কয়ার বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। যাতে শরীরের ইমিউন সিস্টেমটা কিছুটা বুস্ট করা যায়।

অফিসের অনেক কাজ পড়ে আছে। ভেবেছিলাম, এই কোয়ারিন্টিনকালে সব শেষ করে ফেলবো। কিন্তু কোনো কাজেই মন বসে না। সারাক্ষণই মাথার মধ্যে করোনার চিন্তা। কিছুক্ষণ পরপরই পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের ওয়েবসাইট ভিজিট করা, বিবিসি দেখা। সর্বশেষ আপডেট নেয়া। এভাবেই কাটছে সময়।

ডেগেনহ্যাম ‘ফার্স্ট এভিনিউ’ বেশ ঘন বসতিপূর্ণ একটি আবাসিক এলাকা। অথচ আজ ১৫ মিনিটের সাইক্লিংকালে রাস্তায় মাত্র একজন মানুষের দেখা পেলাম। তাও আমাকে দ্বি-চক্রযানের উপরে দেখে তিনি আগে-ভাগেই রাস্তা ছেড়ে দিয়ে নিরাপদ দুরত্ব হেঁটে চললেন। বিস্তৃত এই এলাকা যখন সারাক্ষণ মানুষের পদচারণায় মুখরিত থাকে, সেখানে যেন বিরাজ করছে কবরস্থানের নিস্তব্ধতা।

বেশিক্ষণ সাইক্লিংয়ের সাহস পেলাম না। মুখে মাস্ক, হাতে গ্লাবস। এরপরও ভয়। কারণ সাম্প্রতিক এক গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস নাকি ৩০ মিনিট পর্যন্ত বাতাসে ভেসে বেড়াতে পারে। তাহলে তো ভয়েরই বিষয়, করোনা আক্রান্ত কেউ যদি দূর থেকে হাঁচি কাশি দেয় তাহলে তা বাতাসে ভেসে এসে সংক্রিমত হতে পারে।

কেউ বলেন মাস্ক পরেন। কেউ বলেন মাস্ক পরে লাভ নেই। বাংলাদেশে ও ভারতে রাস্তায় দেখলাম এক আজব চিত্র। মাস্ক না পরার কারণে পথচারিদেরকে রীতিমতো লাঠিপেটা করছে পুলিশ। কিন্তু কিছুই বুঝে আসে না আমার। এত ক্ষদ্র জীবানু যা শক্তিশালী মাইক্রোস্কোপ ছাড়া দেখাই যায় না, তা যদি বাতাসে ভেসে এসে মুখে ঢুকতে চায় তাহলে কাপড়ের তৈরি মাস্ক কি তা আটকাতে পারবে? আসলে এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। ভরসা কিন্তু একজনের ওপরই। যিনি এই ভাইরাসের প্রেরক ও নিয়ন্ত্রক। তিনিই সর্বশক্তিমান। তাঁর কাছেই সাহায্য চাইতে হবে। (চলবে)

ডেগনহ্যাম, লন্ডন,বৃহস্পতিবার, ২০২০

শেয়ার করুন