করোনাভাইরাস: সিলেটে অপ্রতুল পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপম্যান্ট

ছবি সংগৃহীত

বিশেষ রিপোর্ট : সিলেটে করোনাভাইরাসের চিকিৎসা সরঞ্জামের মারাত্মক অপ্রতুলতা বিরাজ করছে। সিলেট বিভাগের সবচাইতে বড় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় দুই হাজার পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপম্যান্ট (পিপিই)’র চাহিদা থাকলেও এ হাসপাতালে শনিবার পর্যন্ত মাত্র ১৫৯টি পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে। আর সিলেট সদর হাসপাতালের জন্য পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৯৯টি। পর্যাপ্ত পিপিই সরবরাহ না করায় উদ্বিগ্ন এ হাসপাতালের চিকিৎসক এবং নার্সরা। রবিবার ভোরে সিলেটে করোনা সন্দেহে এক যুক্তরাজ্য প্রবাসী মহিলার মৃত্যুর পর সিলেটে পিপিই’র বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে নতুন করে।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা: হিমাংশু লাল রায় জানান, দুই হাসপাতালের জন্য এখন ২৫৮টি পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে। আমাদের চাহিদা প্রায় দুই হাজার। এ চাহিদা আমরা এরই মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রেরণ করেছি। অধিদপ্তরের সাথে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। শিগগিরই আরো কিছু পিপিই পাওয়া যাবে বলে আশা এ চিকিৎসকের। প্রসঙ্গক্রমে তিনি আরো বলেন, এ মুহূর্তে মাস্ক এবং গøাভসের সংকট না থাকলেও গাউনের সংকট রয়েছে।
তিনি জানান, শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে বর্তমানে চারজন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় করোনা সন্দেহে আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে আরো দুজনকে। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, একজনের রক্তের স্যাম্পুল এরই মধ্যে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
ওসমানী মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও করোনা চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল টিমের প্রধান অধ্যাপক ডা. শিশির রঞ্জন চক্রবর্তী জানান, বিদ্যমান পিপিই দিয়ে কোনমতে চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো যাচ্ছে। কিন্তু, রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলে এ সরঞ্জাম দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাবে না বলে মন্তব্য তাঁর।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওসমানী মেডিকেল কলেজের আরেকজন চিকিৎসক জানান, বর্তমান সময়ে চিকিৎসকদের প্রতিরক্ষা সবচেয়ে বেশী জরুরী। চিকিৎসকের প্রতিরক্ষার দাবিতে সম্প্রতি এ হাসপাতালের ইন্টার্নরা সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানান।
সিলেটের সিভিল সার্জন ডা: প্রেমানন্দ মন্ডল জানিয়েছেন, প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে এ ভাইরাসের ঝুঁকি কোনভাবেই উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। এজন্য সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে এরই মধ্যে আইসোলেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে। এছাড়া, প্রস্তুত রাখা হয়েছে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল এবং খাদিমপাড়া হাসপাতালকেও।
সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা: নুরে আলম শামীম জানান, শনিবার পর্যন্ত সিলেটে ৭৪৫ প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে শনিবার ৬৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়।

শেয়ার করুন