ধর্ষকদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ ঘোষণা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাদশ জাতীয় সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশনে সমাপনী বক্তব্য রাখেন। ছবি: পিআইডি

সিলেটের সকাল ডেস্ক ।। প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনা সন্ত্রাস, মাদক এবং জঙ্গিবাদের মত ধর্ষকদের বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে এসব অপরাধের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলেনাচনা এবং একাদশ জাতীয় সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশনের সমাপ্তি ভাষণে তিনি বলেন, ‘ধর্ষকদের ধরিয়ে দিন। কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ নামের কিছু পশু ছোট শিশু থেকে শুরু করে মেয়েদের বিভিন্ন জায়গায় ধর্ষণ করছে। এদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। কাউকে-ই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই, ধর্ষণকারীদের যেখানেই পাওয়া যাবে, তাদের ধরিয়ে দিন। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে ধরিয়ে দিন। আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘করোনা ভাইরাস’ প্রতিরোধ, ‘ডেঙ্গু’ প্রসংগ, আসন্ন রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং দেশের ব্যাংকে টাকা নেই বলে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে দেশের বর্তমান রিজার্ভসহ আর্থ-সামাজিক অবস্থার উত্তরণের চিত্র তাঁর ভাষণে তুলে ধরেন।

আগামী রোজায় দ্রব্যমূল্য নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রমজান এলেই অনেকেই দ্রব্যমূল্য নিয়ে খেলায় মেতে ওঠার চেষ্টা করে। আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

‘কেউ কোনো সঙ্কটের গুজব ছড়ালে তাতে কেউ আতঙ্কিত হবেন না। আতঙ্কিত হয়ে পণ্য মজুদ করবেন না,’ যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের সময়ে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জাতির পিতা হত্যাকান্ডের বিচার ও সাজা প্রদান এবং চলমান যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রসংগ উল্লেখ করে বলেন, ‘কারো প্রতি বিদ্বেষ নিয়ে চলি না। প্রতিশোধ নিতেও যাইনি। যেখানে অন্যায় হয়েছে, সেখানে ন্যায় করার চেষ্টা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এটি আজ কারো কাছে গোপন নেই। এক সময় দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের রাজত্ব ছিল। মানুষের জানমালের কোন নিরাপত্তা ছিল না। আমরা অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম। এক দশকে আমরা বাংলাদেশের অবস্থার পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ৩০ মিনিটের কিছু বেশি সময়ের ভাষণে সংসদে রাষ্ট্রপতির দেয়া ভাষণের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেক কষ্ট, ব্যথা-বেদনা বুকে চেপে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। বাংলাদেশের মানুষ যেন একটু সুখের মুখ দেখে, তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটে- সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে চলেছি।’

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে মুজিববর্ষকে সামনে রেখে দেশের চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে দেশবাসীর সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

তথ্যসূত্র-বাসস

শেয়ার করুন