জিএসসির নিন্দা ও প্রতিবাদঃ বিমান সচিবকে বক্তব্য প্রত্যাহার ও প্রবাসিদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে

বাংলাদেশ সরকারের বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মহিবুল হক প্রবাসী বিমান যাত্রীদের নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন তার তীব্র নিন্দা ও বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাচ্ছে গ্রেটার সিলেট ডেভেলাপমেন্ট এন্ড ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল ইন ইউকে । এক বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রিয় চেয়ারপার্সন ব্যারিস্টার আতাউর রহমান , সাধারণ সম্পাদক খসরু খান , ট্রেজারার সালেহ আহমদ, জিএসসি সাউথ ইস্ট রিজিওনের চেয়ারপার্সন মোহাম্মদ ইছবাহ উদ্দিন , সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করীম চৌধুরী ও ট্রেজারার সুফী সুহেল আহমেদ সহ বিভিন্ন রিজিও্ন ও ব্রাঞ্চের নেতৃবৃন্দ যৌথ বিবৃতিতে বিমান সচিবের বক্তব্য প্রত্যাহার ও প্রবাসীদের নিকট ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানান । তাঁর এহেন দুঃখজনক এবং অনাকাঙ্খিত মন্তব্য বহির্বিশ্বে অবস্থারত প্রবাসী বাংলাদেশী এবং দেশপ্রেমিক বাংলাদেশী নাগরিকদের শুধু বিস্মিতই করেনি, দারুণভাবে মর্মাহতও করেছে। প্রজাতন্ত্রের একজন পদস্থ কর্মকর্তার মুখে এ ধরণের মন্তব্য বেদনাদায়ক এবং বেমানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিমান সচিব প্রবাসিদের কটুক্তি করে বলেছেন , তিনি সাড়ে ১২শ’ কোটি টাকা দিয়ে দুটি বিমান কিনেছেন । বিমানটি হিথ্রোতে নিয়ে আসার পর ক্লিনাররা পরিস্কার করতে রাজি হয়নি,কারণ প্রবাসী যাত্রীরা বিমানটিতে পানের পিক এবং খাবার পিক ফেলে নোংরা করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের যাত্রীরা কিভাবে আমাদের কাছ থেকে ভাল ব্যবহার আশা করে। তিনি আরো বলেন, যাত্রীরা মনে করে বিমানটি তার পৈতৃক সম্পত্তি । তিনি অভিযোগ করেন- লন্ডন থেকে ফিরত বিমানটির দুটি মনিটরও যাত্রীরা ভেংগে দিয়েছেন।

জিএসসি নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন,উপমহাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম থেকে শুরু করে বাঙলা এবং বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনসহ সকল আন্দোলন-সংগ্রামে আমাদের প্রবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে। দেশমাতৃকার সকল দূর্যোগ-দুর্দিনে সব সময় প্রবাসী বাংলাদেশীরা সহমর্মিতা আর সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছেন। এক্ষেত্রে সুদূর অতীত কাল থেকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন আমাদের যুক্তরাজ্য প্রবাসীগণ। আর যুক্তরাজ্যে অভিবাসী বাংলাদেশী জনগোষ্ঠীর ৯০ শতাংশেরও অধিক সিলেট অঞ্চলের অধিবাসী এবং তারাই সবচেয়ে বিমানে যাতায়াত করেন। বিমান সচিব প্রবাসীদের কটুক্তি করে দেয়া বক্তব্যটি যুক্তরাজ্য প্রবাসী সিলেটিদের প্রতি ইঙ্গিতবহ বটে । সচিব মহোদয়ের ভুলে গেলে চলবে না বিমান তথা বাংলাদেশ সরকারের রেমিটেন্সের বিশাল একটি অংশ যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের অবদান ।

১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশীরাই মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে, শরণার্থীদের সাহায্যার্থে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অর্থ, অস্ত্র, বস্ত্র এবং খাদ্য সামগ্রী সহায়তায় এগিয়ে আসেন। মুক্তিযুদ্ধ শেষ হলে যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশের একেবারে শুন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বৈদেশিক মূদ্রার প্রথম রিজার্ভ সৃষ্টির লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের দানকৃত সাড়ে ৪ লক্ষ পাউন্ড বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিলে প্রদান করা হয়। আর প্রবাসীদের দানকৃত এ বৈদেশিক মুদ্রার মাধ্যমেই স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভের শুভ সূচনা হয়।

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এবং দেশ ও জাতির সকল ক্রান্তিলগ্নে প্রবাসী বাংলাদেশীদের ঐতিহাসিক অবদান এবং তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা সকলেরই জানা আছে। সর্বোপরি আমাদের জাতীয় অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে প্রবাসী জনগোষ্ঠীর কষ্টার্জিত বৈদেশিক মূদ্রা সুদুরপ্রসারী ভূমিকা রাখছে যুগ যুগ ধরে। আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে,বাংলাদেশ বিমানকে আকাশে টিকিয়ে রাখতে মাতৃভূমির মাটি ও মানুষের প্রতি নাড়ির টান এবং গভীর মমত্ববোধে আবদ্ধ প্রবাসী বাংলাদেশীদের অবদানই মুখ্য।

সুদূর অতীত কাল থেকে দেশমাতৃকার কল্যাণে এবং জাতির অগ্রযাত্রায় প্রবাসীদের অবদানের কথা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিমান ও পর্যটন সচিবের অবশ্যই জানা থাকা উচিত ছিলো। কিন্তু প্রবাসীদের নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক নেতিবাচক এবং দুঃখজনক বক্তব্য আমাদেরকে হতাশ করেছে। – সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

শেয়ার করুন