আদালতের রায় পেয়েও অসহায় ইনাতাবাদের জোসনা

সিলেটের সকাল রিপোর্ট :: সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের ইনাতাবাদ গ্রামের মৃত জাহিদ আহমদের মেয়ে জোসনা বেগম দাবি করেছেন, প্রতিবেশি নাজমা বেগমের অত্যাচারে নিরুপায় তার পরিবার। আদালতে নিজেদের পক্ষে রায় পেয়েও অসহায় হয়ে পড়েছেন তারা। এমনকি বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তাও বন্ধ হয়ে গেছে।

রোববার সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, খানুয়া মৌজার ইনাতাবাদের (জেল নং ৮৭, এসএ খতিয়ান ২৫০, এসএ দাগ নং ২০, প্রকৃতপক্ষে ১২০, আরএস এর ডিপি খতিয়ান ২৩২, আরএস এর দাগ নং ১৯৫) এর ১১ শতক জমির এই বাড়িতে তাদের বসবাস। বাড়ির পশ্চিমে কাচাঁ রাস্তা ৭৫ এসএ দাগের ভেতরে ১১ শতক জমি তাদের রয়েছে।

অথচ, নাজমা বেগম ও তার বাড়ির লোকজন বের হওয়ার মূল রাস্তা ও বাড়ির কিছু অংশ দাবি করে আসছেন। এ বিষয় নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু সালিশের রায় মেনে নেয়নি নাজমা গংরা।

এ বিষয়ে জোসনার ভাই লুকু মিয়া গং (চারজন) সিনিয়র জজ আদালত সদর, সিলেটে গিয়ে নাজমা গংদের বিরুদ্ধে মামলা করলে গত ৩০/৯/১৮ তারিখে (২৮/১৮নং) মামলার রায় দেন আদালত। আদালত নাজমা গংদের বিরুদ্ধে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন।

জোসনা বেগম বলেন, এই মামলায় ডিক্রি হয় ৭/১০/১৮ইং। পরে ওই রায় ডিক্রির বিরুদ্ধে নাজমা গংরা সিলেট জেলা জজ আদালতে স্বত্ব আপিল ২৪৩/১৮ দায়ের করেন। এই মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ২৮/১৮ নং মামলার শুনানিতে বিবাদীরা স্বীকার করেছে, প্লট-১১৯ এ সরকারী রাস্তা এবং আমাদের বাড়ী রয়েছে। কিন্তু, ২৮/১৮ মামলার রায় বহাল থাকা অবস্থায় নাজমা গংরা অনৈতিক ও বেআইনিভাবে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. খালেদা আক্তার রেখা স্বাক্ষরিত (প্রসেস নং ৮২, তাং ১২/০৭/১৮) একটি উচ্ছেদ মামলা করেন।

জোসনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, সেই নোটিশ নিয়ে প্রতারণা করে আমাদের আদালতের রায় ডিক্রির ভূমিতে নিমার্ধীন পাকা দালানঘর, পাকা সীমানা দেয়ালসহ অন্যান্য কাচাঁঘর নির্বাহী ম্যাজিষ্টেটে আশরাফুল হকের নেতৃত্বে ভেঙ্গে ফেলা হয়। এই দিন আসামীরা পুলিশ ও ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে চলাচলের রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা দেয়। এমনকি আদালতের রায় ম্যাজিষ্ট্রেটকে দেখাতে গেলে পুলিশ আমাদের মারধর করে একটি রুমে নিয়ে বন্দি করে রাখে।
তিনি বলেন, আদালতের রায় পাওয়ার পরও আমার বাড়ি ও মসজিদের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে প্রভাবশালী এই মহলটি। গত ১৮ জুন থেকে বাড়িতে প্রবেশের রাস্তা বন্ধ থাকায় পানিতে ভিজে খাল পাড়ি দিতে হয়। নারী ও শিশুদের কষ্টের সীমা থাকছে না। এ অবস্থায় প্রকৃত সত্য যাচাই-বাছাই করে বিজ্ঞ আদালতের দেয়া রায় বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

শেয়ার করুন