আজ আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেডক্রিসেন্ট দিবস

আন্তর্জাতিক রেড ক্রসও রেডক্রিসেন্ট দিবস দিবস আজ। যুদ্ধাহতের সেবায় ১৮৬৩ সালে যিনি রেডক্রসের মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে অমর হয়ে আছেন, আজ সেই মানবদরদী জিন হেনরি ডুনান্টের জন্মদিন। প্রতি বছর তার জন্মদিন ৮ মে তারিখে আন্তর্জাতিকভাবে রেডক্রস দিবস পালন করা হয়। জিন হেনরি ডুনান্টের জন্ম ১৮২৮ সালে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে। ১৯১০ সালের ৩০ অক্টোবর ৮৩ বছর বয়সে তিনি সুইজারল্যান্ডের প্রত্যন্ত গ্রামে মারা যান। ১৯০১ সালে তিনি সর্বপ্রথম শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। রেডক্রস দিবস উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, রেডক্রস দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও এ বছর ৮ মে ‘বিশ্ব রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস’ উদযাপিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। দিবসটি উপলক্ষে আমি রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।’ তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলন বিশ্বব্যাপী বিপন্ন মানুষের পাশে থেকে মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধকালীন এবং সদ্য স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের ক্রান্তিকালে সংগঠনটি যুদ্ধাহত মানুষের পাশে থেকে আর্ত-মানবতার কল্যাণে কাজ করেছে। এছাড়া সাইক্লোন, বন্যা, খরা, শৈত্যপ্রবাহ, অগ্নিকা-সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগে বিপন্ন মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।’ 

দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, ‘বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ৮ মে বিশ্ব রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করছে জেনে আমি আনন্দিত। এ উপলক্ষে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বেচ্ছাসেবক, পৃষ্ঠপোষক ও শুভানুধ্যায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।’ তিনি বলেন, ‘এ বছর বিশ্ব রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারিত হয়েছেÑ খড়াব। মানবকল্যাণে নিয়োজিত বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সবাইকে ভালোবাসার বন্ধনে একত্রিত করে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিপন্ন মানুষের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।’ তিনি বলেন, মানবকল্যাণে গৃহীত বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বিভিন্ন কার্যক্রম এরই মধ্যে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছে। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার জনগোষ্ঠীকে সরকারের সহযোগী সংগঠন হিসেবে মানবিক সহায়তা প্রদান করে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি পরিচালিত ফিল্ড হাসপাতাল ও ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্পগুলো উদ্বাস্তু এসব জনগোষ্ঠীর জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যৌথ কর্মসূচি হিসেবে ১৯৭৩ সালে প্রবর্তিত ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) উপকূলীয় এলাকার জনগণের জানমাল রক্ষায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। আমি আশা করি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি মানবকল্যাণে নেওয়া তাদের কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করবে।’

শেয়ার করুন