চুড়ি’র সূত্রে খুনি শনাক্ত

untitled-4_171648সিলেটের সকাল : সিনেমাটিক কাহিনি। সব মাংস ঝরে গিয়েছিল শরীর থেকে। উদ্ধার হয়েছিল শুধু হাড়গোড়। নারী না পুরুষের গলিত লাশ দেখে শুরুতে মিলছিল না উত্তর। হাতের চুড়ি জানান দিল লাশটি নারীর।

কে এই নারী। কে তার খুনি। এসব প্রশ্ন অধরা রেখেই অজ্ঞাত নারীর লাশ হিসেবে ওসমানী হাসপাতালে সেটির ময়না তদন্ত হয়। সিলেট নগরীর মানিক পীর (রহ.) গোরস্তানে সম্পন্ন হয় দাফনও। এবার মিলেছে এই লাশের পরিচয়। আটক হয়েছে খুনিও। সেনেমাটিক এই খুন রহস্যের ক্লু বের হয়েছে সে চুড়ি থেকেই।

হাসপাতালে কঙ্কালের আলামত রেখে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবেই দাফন করা হলো । চুড়িটি রাখা হয় জৈন্তাপুর থানায়। থানায় রাখা চুড়ি দেখে পরিবারের লোকজন শনাক্ত করেন কঙ্কালটি ছিল গৃহবধূ পুতুল বেগমের। নিহত পুতুল বেগম ছিলেন সিলেট নগরীর মেজরটিলা স্কলার্স হোম প্রিপারেটরি স্কুলের আয়া। একই ধরনের চুড়ি ছিল পুতুলের মায়ের হাতেও। তাতেই উদ্ঘাটিত হলো উদ্ধার হওয়া লাশটি পুতুলের।
পরিচয় জানার পর গত মঙ্গলবার রাতেই পুলিশ আটক করে পুতুলের স্বামী জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট গ্রামের হেলাল মিয়ার ছেলে উমর ফারুক দোলনকে। প্রথমে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন পুলিশের কাছে। তাতেই সন্দেহ দেখা দেয় পুলিশের। একপর্যায়ে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে দোলন স্ত্রী পুতুলকে নিজেই হত্যা করেছেন বলে স্বীকার করেন।

তিনি পুলিশকে জানান, গত ১৯ অক্টোবর স্ত্রী পুতুলকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যান জৈন্তাপুর আলুরতল ব্লক ফ্যাক্টরিতে। ওই ফ্যাক্টরিতে তিনি চাকরি করেন। সেখানে স্ত্রী আসার পর তারা দু’জন মিলে সাংসারিক কথাবার্তা বলেন। এরপর পুতুলকে নিয়ে আলুরতল জঙ্গলের ভেতর যান। সেখানে দু’জনের কথাবার্তার একপর্যায়ে পুতুলের সঙ্গে আরেকজনের সম্পর্ক রয়েছে কি-না জানতে চান দোলন। পুতুল না বলার পর দু’জনের মধ্যে এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে পুতুলকে পাথর দিয়ে মাথায় তিন-চারটি আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এরপর তার লাশ ফেলে দেওয়া হয় জঙ্গলের পাশে একটি খালে। জৈন্তাপুর থানা সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।
গত ১৯ অক্টোবর সিলেট কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি করেন পুতুলের বাবা নগরীর নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকার শফিক মিয়া। জিডিতে তার মেয়ে নিখোঁজ বলে উল্লেখ করেন। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে একটি কঙ্কাল পাওয়ার সংবাদ প্রকাশ হয়। এমনকি একটি চুড়ি পাওয়া গেছে বলে গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়।

এসব জানার পর মঙ্গলবার রাতে কোতোয়ালি থানায় করা সাধারণ ডায়েরির কপিসহ জৈন্তাপুর থানায় যান পুতুলের বাবা শফিক মিয়া। এ সময় তার সঙ্গে ছিল ছেলে বায়েজিদ। সেখানে প্রথমে তারা পুলিশের কাছে রাখা চুড়ি দেখতে পান। ওই চুড়ি দেখার পরই তারা নিশ্চিত হন এটি পুতুলের। একপর্যায়ে পুতুলের মায়ের হাতে থাকা চুড়ির সঙ্গে মিলে যায় গত ৩১ অক্টোবর জৈন্তাপুরের জাফলং ভ্যালি স্কুল এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালের হাতে থাকা চুড়ির। এর সূত্র ধরেই আটক করা হয় পুতুলের স্বামী দোলনকে।
এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর থানার ওসি সফিউল কবির জানান, যে কঙ্কালটি উদ্ধার হয়েছিল সেটির রহস্য উদ্ঘাটন হয়েছে। নিহত পুতুলের মায়ের কাছে রয়েছে একই ধরনের চুড়ি। মেয়েকে শখ করে চুড়ি কিনে দিয়েছিলেন মা আনোয়ারা বেগম।

শেয়ার করুন