এবার চালক পিটিয়ে ক্ষমতা দেখাল পুলিশ

35417_0সিলেটের সকাল : লক্ষ ছিল টু-পাইস কামাই। বাহানা পুলিশ টিউটি না করা। এই জন্যে সিএনজি অটোরিকশা চালককে মেরে সোজা করে দিয়েছেন পুলিশের এএসআই ও কনস্টেবল। সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালী থানার এএসআই বজলু ও কনস্টেবল অনুকূলের বিরুদ্ধে এমন লিখিত অভিযোগ গিয়েছে পুলিশ কমিশনার বরাবর।

এর আগে নগরীর এক ডাক্তারের বাসায় গভীর রাতে হানা, ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে ২০ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালীর তিন পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়।

নতুন ঘটনায় মহানগরীর জালালাবাদ থানার বানাগাঁও গ্রামের জমসেদ আলীর ছেলে চালক মোহাম্মদ আলী লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সিএনজি অটোরিক্সা (সিলেট-থ-১২-৭০৫১) নিয়ে তার অসুস্থ ভাবীকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে মদীনা মার্কেটের দিকে যাচ্ছিলেন। বাগবাড়ি পয়েন্টে পৌছামাত্র কনস্টেবল অনুকূল গাড়ি থামানোর জন্য সিগনাল দেন। কাগজপত্র দেখার পর কনস্টেবল জানতে চান, পুলিশ ডিউটি করছেন কিনা? মোহাম্মদ আলী না সুচক উত্তর দিলে পাশে উপস্থিত এএসআই বজলুর নির্দেশে কনস্টেবল অনুকূল তার (মোহাম্মদ আলী) শার্টের কলারে ধরে বর্ণমালা স্কুলের পাশে লোক সমাগম কম এমন জায়গায় নিয়ে যান। এ সময় বজল ও অনুকূল তার কাছে এক হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার কথা বললে বজলু ও অনুকূল ক্ষেপে যান। তারা উপর্যুপরী মোহাম্মদ আলীকে চরথাপ্পর মারতে থাকেন। এক পর্যায়ে অনুকূল মোহাম্মদ আলীর বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করার হুমকী দেন। এ সময় তার চিৎকারে পথচারীরা জড়ো হন। তারা চালকে মারধরের কারণ জানতে চাইলে, নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করেন পুলিশের এই দুই সদস্য। এ ঘটনায় ওই দিনই মোহাম্মদ আলী সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে কতোয়ালী থানার এএসআই বজলুকে দফায় দফায় ফোন দিলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) মোঃ রহমত উল্লাহ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যইতদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত এ এসআই ও কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, সিলেট নগরীর শিবগঞ্জের ডাক্তার ‍নুরুল অম্বিয়ার বাসায় ২৯ আগস্ট হানা দেন কোতোয়ালির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা, কনস্টেবল আব্দুল কুদ্দুস ও মনোরঞ্জন। তারা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ অর্থ আদায়ের পাশাপাশি চেকও নেন। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেযে তদন্ত করে এই তিনেজনকে ২০ সেপ্টেম্বর বরখাস্ত করা হয়।

শেয়ার করুন