আর কত বয়স হলে ‘বয়স্কভাতা’ পাবেন তারাবান বিবি?

12বিশেষ রিপোর্ট: মানবিক চোখ তাদের দেখে না; দেখলেও যেন চোখ বুঝে থাকে অথবা পাশ কাটিয়ে যায়। বলা হচ্ছে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্বপাগলা ইউনিয়নের দামান্দটুপি গ্রামে কুড়েঘরে বাস করা অক্ষম ও অসহায় বয়োবৃদ্ধ এক দম্পতির কথা। প্রতিনিয়ত যারা অনাহারে অর্ধহারে রোগে শোকে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি ঝুপড়ি ঘরের দরজায় শীতে জবুথবু হয়ে বসে আছেন ওসমান আলী (১১৫) ও তারাবান বিবি (৯১)।

আকাশে ঝলমলে রোদ। তবুও শীতের কাঁপনি কমেনি তাদের। ঠকঠক করে কাঁপতে কাঁপতে প্রতিবেদককে দেখা মাত্রই হাত বাড়িয়ে ওসমান আলী বললেন, ৪ ছেলে ও ৪ মেয়ে নিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছি। বড় ছেলে হোসেন আহমদ (৭০) বর্তমানে ক্যান্সারে আক্রান্ত। বিনা চিকিৎসায় ধুকে ধুকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ওসমান আলী বলেন, তিনি এক বছর যাবত ৩শ’ টাকা বয়স্কভাতা পেলেও তার স্ত্রী ও অসুস্থ বড়ছেলে কোন টাকা পায় না।

তিনি জানান, অনেকবার প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে ছুটে গেছেন, কিন্তু কোন লাভ হয়নি। এমতাবস্থায় প্রতিবেশীদের সাহায্যে কোনোরকমে বেঁচে আছেন তারা। যতদিন শরীরে জোর ছিল কাজ করে খেয়েছেন। বার্ধক্য চলে আসায় এখন তার সেই ক্ষমতাও নেই। চোখেও তেমন দেখেন না। অন্যের সাহায্য ছাড়া চলতেও পারেন না।

চলে আসার সময় তারাবান বিবি প্রতিবেদকের হাত ধরে আক্ষেপ করে বলেন, ‘কখন মরি যাই ঠিক নাই। কিন্তু আমরার কথা কেউ বোঝে না। মরি যাওয়ার সময় অইছে কিন্তু আইজপর্যন্ত কার্ড (বয়স্কভাতা কার্ড) পাইলাম না।’

শেয়ার করুন