ভাষার মাস ফেব্রুয়ারীি

সিলেটের সকাল ডেস্ক : ফেব্রুয়ারী মাস ভাষা আন্দোলন, ভাষা শহীদ, শহীদ মিনার-এগুলোর সাথে একান্তভাবে জড়িত। পৃথিবীর বহু ভাষার মধ্যে আমাদের বাংলা ভাষার স্থান ষষ্ঠ। বিশ্বের সকল জাতিসত্তার ভাষার মধ্যে বাংলাদেশী ও বাংলাভাষী জাতি হিসেবে আমরা একক ও অনন্য গৌরবের অধিকারী।
এই গৌরব একদিনে আসেনি। দীর্ঘ সংগ্রাম রয়েছে এর পেছনে। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকায় রেসকোর্স ময়দানে নাগরিক সংবর্ধনা সমাবেশে পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা দেন-উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। তার এ বক্তব্য রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে আন্দোলনকারীদের বিক্ষুব্ধ করে তুলে। এরপর ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারী নাজিম উদ্দিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। ২৭ জানুয়ারী তিনি ঢাকায় পল্টনে পাকিস্তান মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে বলেন-‘পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু।’
তার এই বক্তব্যই রক্তঝরা বায়ান্নর সূত্রপাত। ছাত্র-জনতা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলে। আন্দোলনের এক পর্যায়ে ঢাকায় ১৯৫২’র ২০ ফেব্রুয়ারীি থেকে এক মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। সরকারের ১৪৪ ধারা জারির প্রেক্ষিতে ২১-এর কর্মসূচি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ২০ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যার পর ৯৪ নওয়াব রোডে আওয়ামী মুসলিম লীগের সদর দপ্তরে সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ এক বৈঠকে বসে। বৈঠকে পরদিন ২১ ফেব্রæয়ারী ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা হবে কি হবে না এই প্রশ্নে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে গিয়ে বৈঠকে উপস্থিতদের কে কোন পক্ষে মত দিয়েছিলেন- এ বিষয়ে আলোচনা বিশ্লেষণ পাওয়া যায়। তবে বৈঠকে ১৪৪ ধারা ভাঙার পক্ষে ছিলেন আবার বিপক্ষেও ছিলেন। ১৪৪ ধারা যারা ভাঙতে চাননি তাদের যুক্তি ছিলো সর্বদলীয় কর্মপরিষদ নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তুলতে চায়। বে-আইনী কাজে তারা যাবেন না। ১৪৪ ধারা ভাঙা হলে সরকার নিপীড়নের সুযোগ পাবে, তাতে নির্বাচন পিছিয়ে যাবার সম্ভাবনা থেকে যায়। কর্মপরিষদে যে সব রাজনৈতিক নেতা ছিলেন তাদের সামনে রাষ্ট্রভাষার সংগ্রামের চেয়ে পরিষদের নির্বাচন অনেক বেশী আকর্ষণীয় ছিলো। আবার তারা সরকারের নিপীড়ন এড়িয়ে চলতে চেয়েছিলেন। বৈঠকে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ, পূর্ব পাকিস্তান মুসলীম ছাত্রলীগ, তাদের সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধি, খেলাফতে রব্বানী পার্টি, তমদ্দুন মজলিস, সরকার সমর্থক বিভিন্ন হলের ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিরা প্রায় সবাই ১৪৪ ধারা না ভাঙার পক্ষে কঠোর মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন। তাদের মধ্যে সভা কক্ষের বাইরে ফজলুল হক হলের আবদুল মোমিন ও মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র এম এ আজমল ১৪৪ ধারা ভাঙার পক্ষে তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

শেয়ার করুন