টিকা নিয়ে বিএনপির অপরাজনীতি প্রত্যাখ্যাত: কাদের

সকাল ডেস্ক :
করোনার টিকা নিয়ে বিএনপি যেসব বক্তব্য দিয়ে এসেছিল, সেগুলোকে অপরাজনীতি বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
বিপুল সংখ্যক মানুষ টিকা গ্রহণ করে বিএনপির সেই রাজনীতি জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা।
মঙ্গলবার সকালে পাবনার চাটমোহর উপজেলা সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।
বাংলাদেশ ভারতীয় টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে টিকা আনার পর বিএনপি এর তীব্র সমালোচনা করে। সিরাম বিশ্বের সবচেয়ে টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হলেও এর মান ভালো নয় বলে সংশয় প্রকাশ করে দেড় দশক ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি।
কোনো ধরনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ না দিয়ে বিএনপির মুখপাত্র রুহুল কবির রিজভী এমনও বলেন, ‘সরকার ভ্যাকসিন দিয়ে বিএনপিকে মেরে ফেলতে চায়।’
পরে তিনি আবার করোনার টিকায় মানুষ বাঁচবে কি না-তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।
বিএনপি নেতার এই বক্তব্যের পর তাদের বহু কর্মী সমর্থক সামাজিক মাধ্যমগুলোতে টিকাবিরোধী বক্তব্য দিয়ে জনগণকে নিরুৎসাহিত করে আসছিলেন।
তবে ৭ ফেব্রুয়ারি গণটিকা শুরুর পর থেকে জনগণের মধ্যে যে বিভ্রান্তি নেই খুব একটা, সেটি স্পষ্ট হয়ে গেছে।
১৩ কার্যদিবসে ২৩ লাখেরও বেশি মানুষ টিকা নিয়েছেন। এদের মধ্যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার হার ৭০০ এরও কম। আর যে ধরনের প্রতিক্রিয়া হয়েছে, সেগুলোও নগণ্য।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আন্দোলন ও নির্বাচনে ব্যর্থতার মতো ভ্যাকসিন নিয়েও বিএনপির অপরাজনীতি জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে।
‘তারা ভ্যাকসিন নিয়ে সংশয় সৃষ্টি এবং দুর্নীতির যে গল্প তৈরির অপচেষ্টা করেছিল তা হালে পানি পায়নি।’
কাদের বলেন, ‘মাত্র ১৩ দিনে ২৩ লাখ মানুষের ভ্যাকসিন গ্রহণ শেখ হাসিনার সুদক্ষ ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের সোনালী বার্তা। দেশ-বিদেশে অপপ্রচারের বাক্স খুলে বসা বিএনপি আন্দোলনের নামে আগুন সন্ত্রাস এবং দেশ ও সরকার বিরোধী আল-জাজিরার অপপ্রচার একই সূত্রে গাঁথা।’
আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতিতে বিএনপির আন্দোলন ভাবনায় সংকটের কালো ছায়া ফেলেছে। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই মানুষের স্বস্তি নষ্ট করার পাঁয়তারা করছে বিএনপি।’
নেতা হবে কর্মীর সমর্থনে
কর্মীদের সমর্থনের ভিত্তিতেই নেতা নির্বাচন করতে হবে বলেও জানিয়ে দেন ওবায়দুল কাদের।
বলেন, ‘সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করতে হবে, পকেট কমিটি করা যাবে না।’
এর আগে, সড়ক ও যোগাযোগ অধিদপ্তরের এক আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি অংশ নেন মন্ত্রী।
সেখানে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সততা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে।’
সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদেরকে সততার সঙ্গে কাজ করার তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কমিশন বাণিজ্যের ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

শেয়ার করুন