‘গ্রাহকবিরোধী’ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এল ডাচ-বাংলা!

সিলেটের সকাল ডেস্ক ।। ডাচ বাংলা ব্যাংকের সেভিং অ্যাকাউন্টে জমা রাখতে হবে কমপক্ষে ৫ হাজার টাকা। মিলবে কিছু বাড়তি সুবিধাও। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রাহক মতামত না জানালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেভিংস হিসাবে আটকে যাবে গ্রাহকের টাকা। তবে এনিয়ে ক্ষুব্ধ হন গ্রাহকরা। অনেকে হিসাব না রাখার হুমকি দেন। এর পরই টনক নড়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের।

অবশেষে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে ডাচ-বাংলা ব্যাংক। ফলে এখন আর কোনো গ্রাহকের হিসাব পরিবর্তন হবে না। সাধারণ গ্রাহকও বাড়তি চার্জ ছাড়া অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) বুথ ব্যবহার করতে পারবেন। রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাংকটির ভেরিফাইড পেইজে এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্যের কথা জানানো হয়। একই সাথে বিভিন্ন শাখা ও ফাস্ট ট্র্যাকের পক্ষ থেকেও বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কথা জানানো হয়।

নতুন বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের স্যালারি ও স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্টকে অপরিবর্তিত রেখে শুধুমাত্র সঞ্চয়ী হিসাবের গ্রাহকদের অধিকতর সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে সঞ্চয়ী হিসাবকে দুটি প্রোডাক্টে বিভক্ত করে ব্যাংকের উক্ত গ্রাহকরা যে প্রোডাক্টে তার অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে ইচ্ছুক, তা জানতে চেয়ে ব্যাংকের শাখাসমূহ থেকে কিছু কিছু গ্রাহকদের কাছে ইতোমধ্যে পত্র পাঠানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কিছু গ্রাহকদের অনুরোধে সঞ্চয়ী হিসাবকে দুইটি প্রাডাক্টে বিভক্ত না করে বর্তমানে যে অবস্থায় রয়েছে সেই অবস্থাতেই অপরিবর্তিত রাখার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গ্রাহকদের মধ্যে যারা ইতোমধ্যে পত্র পেয়েছেন তাদেরকে ওই পত্রটি বিবেচনায় না নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, ডাচ বাংলা ব্যাংকের সেভিংস অ্যাকাউন্টের ধরন পরিবর্তন হচ্ছে। এমন তথ্য ভেসে বেড়াচ্ছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। একই সাথে বিভিন্ন শাখা থেকে গ্রাহকদের চিঠি দিয়েও এ বিষয়ে জানানো হয়েছিল। এক গ্রাহককে দেয়া ব্যাংকের চিঠিতে দেখা যায়, সেভিংস বা সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্ট চালানোর ক্ষেত্রে গ্রাহকে নূন্যতম ৫শ’ টাকার বদলে আগামী মে থেকে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা রাখতে হবে। স্বয়ংক্রিয় ভাবেই চালু হবে নতুন এ স্কিম তবে গ্রাহক না চাইলে তা জানাতে হবে ৯০ দিনের মধ্যে।’

তবে, গ্রাহকরা ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হন। ফেসবুকে ব্যাংকটির ভেরিফাইড পেইজে গিয়ে গ্রাহকরা এ বিষয়ে নিজেদের মন্তব্য তুলে ধরেনও। বেশিরভাগ গ্রাহকই অ্যাকাউন্ট বন্ধের ঘোষণাও দেন। এ নিয়ে ডিবিসি নিউজ এবং ঢাকাপোস্ট প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়। এরপরই ব্যাংকটি ‘গ্রাহকবিরোধী’ এমন সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।

শেয়ার করুন