অসুস্থতার কারণে আদালতে অনুপস্থিত খালেদা জিয়া

সকাল ডেস্ক :
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আদালতে গেলেন না অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত না থাকায় এই মামলায় অভিযোগ গঠন তথা বিচার শুরুর প্রক্রিয়া আবার পেছাল।
সোমবার ঢাকার ২ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে আলোচিত মামলাটির অভিযোগ গঠনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিচারক ভারপ্রাপ্ত বিচারক নজরুল ইসলামের কাছে বিএনপি নেত্রীর আইনজীবীরা তাদের মক্কেল অসুস্থ জানিয়ে আবার সময়ের আবেদন করেন।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, ‘বেগম খালেদা এতটাই অসুস্থ যে তিনি ঠিকমত চলাফেরা করতে পারছেন না। তাই তিনি আদালতে আসার জন্য শারীরিক অক্ষমতা প্রকাশ করেছেন।’
এ সময় দুদকের পক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল সময় আবেদনের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বারবার নানা কারণ দেখিয়ে আদালতে হাজির হন না। এ কারণে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছে না। তিনি আর সময় না দিয়ে আসামির অনুপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করার দাবি জানান।
তখন খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহম্দে তালুকদার বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালত সময় দিলে আমরা আগামী ধার্য তারিখে উনাকে (খালেদা জিয়া) আদালতে উপস্থিত করার চেষ্টা করব।’
পরে বিচারক আগামী ২২ মার্চ নতুন তারিখ দেন।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে কারাগারে যাওয়ার পর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বহুবার সময়ের আবেদন করেছেন।
এই মামলার পাশাপাশি নাইকো দুর্নীতির মামলাতেও বিএনপি নেত্রী আদালতে হাজির হচ্ছেন না। গত ৮ ফেব্রুয়ারি যেদিন ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি ছিল, সেদিন তার আইনজীবীরা প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণ দেখিয়ে সময়ের আবেদন করেন।
তখন বিচারক বিরক্তি প্রকাশ করলে বিএনপি নেত্রীর আইনজীবীরা আজকের মতোই আরেকটি তারিখ দেয়ার অনুরোধ করে বলেন, সেই তারিখে তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আদালতে আনার চেষ্টা করবেন।
দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া বিএনপি নেত্রী গত ২৫ মার্চ থেকে সাময়িক মুক্তি নিয়ে বাসায় অবস্থান করছেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনায় প্রথমে ছয় মাসের জন্য এবং পরে আরও ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয় সাজার মেয়াদ।
মামলায় যে অভিযোগ
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লা উত্তোলন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম এবং রাষ্ট্রের ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার ক্ষতি ও আত্মসাতের অভিযোগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানায় মামলাটি করা হয়।
ওই বছরের ৫ অক্টোবর ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন।
খালেদা জিয়া ছাড়া অন্য আসামিরা ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মান্নান ভূঁইয়া, সাবেক শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এম কে আনোয়ার, এম শামসুল ইসলাম, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আমিনুল হক, এ কে এম মোশাররফ হোসেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব নজরুল ইসলাম, পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান এস আর ওসমানী, সাবেক পরিচালক মঈনুল আহসান, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম ও খনির কাজ পাওয়া কোম্পানির স্থানীয় এজেন্ট হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন।
আসামিদের মধ্যে সাইফুর রহমান, মান্নান ভুঁইয়া, এম কে আনোয়ার, আমিনুল হক মারা গেছেন।
আর নিজামী ও মুজাহিদের ফাঁসি হয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়।

শেয়ার করুন