ব্লগার অনন্ত হত্যা : সুরতহালের সাক্ষী সাক্ষ্য দিলেন

সিলেটের সকাল রিপোর্ট:বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ (৩২) হত্যা মামলার সুরতহাল প্রতিবেদনের সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) সিলেটের সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে এ বিষয়ে সাক্ষ্য দেন মদনমোহন কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবুল কাশেম। ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল আমিন বিপ্লব তার সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
আদালত সূত্র জানায়, অনন্ত বিজয় দাশের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে পুলিশ। শিক্ষক আবুল কাশেম পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সুরতহাল তৈরি করে তাঁকে সাক্ষী হিসেবে রাখে। সাক্ষ্য গ্রহণকালে কারাগারে আটক আসামি আবুল খায়ের রশিদ আহমদকে সিলেট কারাগার থেকে এবং শফিউর রহমান ফারাবীকে ঢাকা কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মামলায় মোট ২৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। আদালত আগামী ৩ জানুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ ধার্য্য করেছেন।’
প্রসঙ্গত, গত ২০১৫ সালের ১২ মে সিলেট নগরীর সুবিদবাজারের কলাপাড়া এলাকার নিজ বাসার সামনে খুন হন অনন্ত বিজয় দাশ। বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি তিনি ‘যুক্তি’ নামে বিজ্ঞানবিষয়ক একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। এছাড়া বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

হত্যাকান্ডের এক দিন পর অনন্তের বড় ভাই রতেœশ্বর দাশ বাদী হয়ে সিলেট বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাত চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। এতে বিজ্ঞান বিষয়ে লেখালেখির কারণে অনন্তকে ‘উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী’ পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়।

মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে কানাইঘাটের আবুল হোসেন (২৫), খালপাড় তালবাড়ির ফয়সাল আহমদ (২৭) ও সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বিরেন্দ্রনগরের (বাগলী) মামুনুর রশীদ (২৫) পলাতক। কানাইঘাটের পূর্ব ফালজুর গ্রামের মান্নান ইয়াইয়া ওরফে মান্নান রাহী ওরফে এ বি মান্নান ইয়াইয়া ওরফে ইবনে মঈন (২৪) মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়া, সিলেট নগরীর রিকাবীবাজার এলাকায় বসবাসকারী সাফিউর রহমান ফারাবী ওরফে ফারাবী সাফিউর রহমান (৩০) ও কানাইঘাটের ফালজুর গ্রামের আবুল খায়ের রশীদ আহমদ (২৫) কারাগারে আছেন। ফারাবী বøগার অভিজিৎ রায় হত্যা মামলারও আসামি।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জানান, গত বছরের ৭ মে সিলেটের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। কিন্তু, সাক্ষীদের অনুপস্থিতির কারণে বারবার পেছানো হয় সাক্ষ্য গ্রহণ। দীর্ঘদিন সিলেটের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ চলার পর সম্প্রতি মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

শেয়ার করুন