সেই শোকসভার ভাষণ নিয়ে ‘এক স্টেডিয়াম শোক’ আয়োজন

কবি মমিনুল মউজদীন স্মরণ
ডেস্ক রিপোর্ট: ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী-সন্তানসহ নিহত হন সুনামগঞ্জ পৌরসভার তৎকালীন তিন বারের চেয়ারম্যান, মরমি কবি হাসন রাজার প্রপৌত্র কবি মমিনুল মউজদীন। তাঁর অকালমৃত্যু স্মরণে ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে সর্বদলীয় নাগরিক শোকসভা হয়েছিল। গণপরিসরের সেই শোকসভায় যোগ দিয়েছিলেন জাতীয় নেতারাও। তাঁদের দেওয়া ভাষণ সংকলিত করে ‘এক স্টেডিয়াম শোক’ নামে ভাষণ পরিক্রমার একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছে ‘মাহদীয়া ক্রিয়েশন’ নামের একটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
১৫ নভেম্বর কবি মমিনুল মউজীদনের ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকীকে সামনে রেখে শনিবার সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর পূর্ব জিন্দাবাজার এলাকার বই বিপনন প্রতিষ্ঠান বাতিঘরে এই অনুষ্ঠান হবে।
সুনামগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে ২০০৭ সালের ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় নাগরিক শোকসভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন প্রয়াত গণমানুষের নেতা বরুণ রায়। গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেন, প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও দেওয়ান ফরিদ গাজী, সাবেক মন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সাংসদ রাশেদ খান মেনন, সাংসদ হাসানুল হক ইনু, সাংসদ আসাদুজ্জামান নূর, সাংসদ সুলতান মনসুর, সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সাংবাদিক ও লেখকেরা অংশ নিয়েছিলেন শোকসভায়। ‘এক স্টেডিয়াম শোক’ নামের ভাষণ পরিক্রমার প্রথম পর্বে প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ভাষণের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র উন্মোচন করা হবে। করোনা পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্য বিধি মেনে এ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছে সিলেটের মুক্তচিন্তার সংগঠন ‘সমাজ অনুশীলন’।

শোক সভার ফাইল ছবি

সংগঠনটির সদস্যসচিব মুক্তাদীর আহমদ জানান, সুনামগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামের মতো গণপরিসরে সেই নাগরিক শোকসভায় জাতীয় নেতা থেকে শুরু করে সব দলের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি ছিল একটি ঐতিহাসিক মূহুর্ত। একজন ছাত্রনেতা হিসেবে সেই শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী। তিনি ‘এক স্টেডিয়াম শোক’ তথ্যচিত্র উন্মোচন করবেন। অনুষ্ঠানে প্রয়াত মমিনুল মউজদীনের একমাত্র সন্তান ফিদেল নাহিয়ানসহ কবি, লেখক ও সাংবাদিকেরাও উপস্থিত থাকবেন।
২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ ফেরার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের নিকট মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। এতে মমিনুল মউজদীন, তাঁর স্ত্রী তাহেরা চৌধুরী ও ছোট ছেলে কহলিল জিবরান ও গাড়িচালক কবির মিয়া ঘটনাস্থলে নিহত হন।গুরুতর আহত হয়েছিলেন মমিনুল মউজদীনের বড় ছেলে ফিদেল নাহিয়ান। সিঙ্গাপুরে দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হন।
সুনামগঞ্জ পৌরসভায় এক টানা তিন বার চেয়ারম্যান থাকাকালে মমিনুল মউজদীন ছিলেন দলনিরপেক্ষ জনপ্রতিনিধিত্বের প্রবর্তক একজন রাজনীতিবিদ। প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের নিয়ে তাঁর নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল ‘গণঐক্য’ নামের সর্বদলীয় এক রাজনৈতিক মোর্চা। দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, মাদকবিরোধী সামজিক আন্দোলনসহ সৃজনশীল নানা কর্মযজ্ঞে দেশে ও বিদেশে তিনি এক নামে পরিচিত ছিলেন।
পৌর চেয়ারম্যান থাকাকালে মমিনুল মউজদীন প্রায় দেড় দশক জোছনা রাতে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের সব স্ট্রিট লাইটের বাতি নিভিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতেন। তাঁর এই উদ্যোগটি তখন দারুণভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। এ জন্য তিনি জোছনাবাদী কবি-জনপ্রতিনিধি বলে আখ্যায়িত হয়েছিলেন। ‘এ শহর ছেড়ে পালাব কোথায়’ ও ‘হৃদয় ভাঙার শব্দ’ নামে দুটো কাব্যগ্রন্থ রয়েছে তাঁর।

শেয়ার করুন