সশস্ত্র বাহিনী দিবস: জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ আজ

ডেস্ক রিপোর্ট:যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপনে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০২০’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেলে একযোগে প্রচার করা হবে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, দেশের সব সেনানিবাস, নৌ ঘাঁটি ও স্থাপনা এবং বিমান বাহিনী ঘাঁটির মসজিদগুলোতে দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে ফজরের নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সামরিক সচিবরা আজ সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শাহীন ইকবাল এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন বলে আইএসপিআর জানিয়েছে।

তিন বাহিনী প্রধানরা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক, তিন বাহিনী প্রধান ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

আইএসপিআর জানায়, বর্তমান করোনাভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে কিছু আনুষ্ঠানিকতা সীমিত আকারে করা হবে। এ বছর ঢাকা, খুলনা, চাঁদপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রামে নৌবাহিনী জাহাজগুলো সর্বসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে না।

রাষ্ট্রপতির বাণী : সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, আমি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন সময়ে দেশ ও দেশের বাইরে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আত্মউৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর মহান সদস্যদের প্রতি। মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা সশস্ত্র বাহিনী জাতির গর্ব ও আস্থার প্রতীক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী : প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ২১ নভেম্বর একটি বিশেষ গৌরবের দিন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের এই দিনে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা সম্মিলিতভাবে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণের সূচনা করেন। দখলদার বাহিনী আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়।

গতকাল শুক্রবার সশস্ত্র বাহিনী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশন রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর সশস্ত্র বাহিনীর পরিবেশনায় ‘বিশেষ অনির্বাণ’ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়। পরে বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোতেও পর্যায়ক্রমে এটি সম্প্রচারিত হবে। দিবসটি উপলক্ষে বাংলা ও ইংরেজি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়েছে।

শেয়ার করুন