বিশ্বনাথে গরুর পা কাটার সাক্ষ্য দেয়ায় মাদ্রাসা ছাত্র রবিউল খুন


মানব বন্ধনে ২০ অক্টোবরের মধ্যে আসামীদের গ্রেফতার দাবি

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি: বিশ্বনাথে গরুর পা কাটার স্বাক্ষী দেওয়ায় মাদ্রাসা ছাত্র শিশু রবিউলের পুরুষাঙ্গ কেটে, চোখ দুটি নষ্ট করে, ঘাড় ভেঙ্গে, শরীরের একাধিক স্থানে সিগারেটের ছেকা দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়ে। এ ঘটনা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে রবিউল ইসলামের হত্যাকারীদের দ্রæত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন। উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের বৈরাগীবাজারে এলাকাবাসীর ব্যানারে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে রবিউলের হত্যাকারী সাদিক ও কাদিরকে গ্রেফতার করা না হলে আগামী ২১ অক্টোবর উপজেলা সদরের বাসিয়া সেতুর উপর অনুষ্ঠিতব্য মানববন্ধন থেকে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করা হয়।

রামপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলমগীরের সভাপতিত্বে ও ছাত্রদল নেতা আবদুস সালাম জুনেদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন শহীদ রবিউল ইসলামের পিতা আকবর আলী, প্রবীন সাংবাদিক সাইদুর রহমান সাঈদ, ছাতকের ছইলা আফজলাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার আবদুল ওয়াহিদ, সমাজ সেবক শফিকুল ইসলাম বাবুল, জাতীয় পার্টি নেতা আবুল খয়ের মেম্বার, বিএনপি নেতা আবদুর রশিদ ইউসুফ, খসরুজ্জামান খসরু, লতিফিয়া ইরশাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ইছহাক হোসাইন, সিনিয়র শিক্ষক আবদুল গফুর, পালেরচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল হেকিম, প্রিন্সিপল উইমেন্স কলেজের প্রভাষক হাসানুজ্জামান, মাদ্রাসা শিক্ষক হাফিজ আবদুল কাদির, বৈরাগী বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির আহবায়ক আনিসুজ্জামান খান মেম্বার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুস শহিদ, যুবলীগ নেতা আবুল কাহার, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আতিকুর রহমান আতিক, ছাত্রলীগ নেতা আবদুল মুকিদ সুমন, সংগঠক সিরাজ মিয়া, রামপাশা নতুন বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাদ আলম। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফিজ মিছবাউল ইসলাম। এছাড়া মানববন্ধনে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহন করেন।
প্রসঙ্গত, উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের রহমান নগর গ্রামের আকবর আলীর পুত্র ও স্থানীয় লতিফিয়া ইরশাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র রবিউল ইসলাম (১১) গত ১২ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় গাংগের পাড় এলাকায় যাবার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্ত সে আর বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুজি করেও তাকে না পাওয়ায় এলাকায় মাইকিং করান এবং সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় রবিউলের মামা শওকত আলী বিশ্বনাথ থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। নিখোঁজের পরদিন মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় রামপাশা-বৈরাগীবাজার সড়কের বাল্লার ব্রিজের পার্শ্ববর্তী একটি ডোবায় রবিউল ইসলামের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন একজন কৃষক। খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর নিহতের পিতা আকবর আলী বাদী হয়ে ৩ জনের নাম উল্লেখ ও আরো ৩/৪ জনকে অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত করে মঙ্গলবার বিশ্বনাথ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ওই দিন বিকেলেই মামলার এক অভিযুক্ত উপজেলার করপাড়া গ্রামের আবদুল কাদিরের স্ত্রী মাজেদা বেগমকে (৪০) গ্রেফতার করে থানা পুলিশ।

শেয়ার করুন