ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে, এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ সালাউদ্দিনের

ডেস্ক রিপোর্ট: ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। শনিবার সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়; একটানা চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।
এদিকে, ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের পোলিং এজেন্টকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন বিএনপির প্রার্থী সালাউদ্দিন আহমেদ। তার দাবি, ‘সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যমতে ১৪ ওয়ার্ডের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র থেকে ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। আমি কেন্দ্র পরির্দশন করেও আমাদের কোনও এজেন্ট পাইনি।’

শনিবার (১৭ অক্টোবর) যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে এসব অভিযোগ করেন সালাউদ্দিন আহমেদ। সকালে প্রায় ২০ মিনিট বিভিন্ন ভোট কক্ষে ঘুরে দেখেন তিনি।
সালাউদ্দিনের অভিযোগ, আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পুরো এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা দিচ্ছে। মানুষ ভোট দেওয়া অপেক্ষায় থালকেও সন্ত্রাসীরা ঘরে ঘরে গিয়ে হুমকি দিয়ে আসছে যাতে কেন্দ্রে না আসে। এরপরও কীভাবে ভোট সম্পন্ন হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

এর আগে শুক্রবার কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানো হয়। তিনটি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা।

ভোটগ্রহণ উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকায় নির্দিষ্ট যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সভা-সমাবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি সদস্য মাঠে রয়েছেন।

৩ সেপ্টেম্বর এ দুটি আসনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যেও এ দুটি আসনে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসি।

নির্বাচনী পরিবেশ ভালো রয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা-৫ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জিএম সাহাতাব উদ্দীন।

তিনি বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে এ মুহূর্তে কোনো অভিযোগ পাইনি। সব কেন্দ্রে নিরাপদে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পৌঁছেছে। মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য টহল দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্র ও যাতায়াতের পথে নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

তবে ইসির একটি সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা-৫ আসনের কয়েকটি ওয়ার্ডে সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে রয়েছে।

এদিকে নওগাঁ-৬ আসনে সার্বিক পরিস্থিতি ভালো রয়েছে।

এক নজরে ঢাকা-৫ : আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা ৬ মে মারা যাওয়ায় শূন্য হয় ঢাকা-৫ সংসদীয় আসন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১৪টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ জন প্রার্থী।

তারা হলেন- আওয়ামী লীগের কাজী মনিরুল ইসলাম, বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমেদ, জাতীয় পার্টির মীর আবদুস সবুর, গণফ্রন্টের এইচএম ইব্রাহিম ভূঁইয়া, বাংলাদেশ কংগ্রেসের আনছার রহমান শিকদার ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আরিফুর রহমান।

এ আসনে ১৮৭টি ভোটকেন্দ্রে ভোটকক্ষ রয়েছে ৮৬৪টি। এতে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭১ হাজার ১২৯ জন; যাদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৬৪ জন ও নারী ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৫ জন।

এ নির্বাচনী এলাকায় ২ জন জুডিশিয়াল ও ২৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

নওগাঁ-৬ : আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম মারা গেলে ২৭ জুলাই নওগাঁ-৬ আসন শূন্য হয়।

তার এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের আনোয়ার হোসেন (হেলাল), বিএনপির শেখ রেজাউল ইসলাম ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির খন্দকার ইন্তেখাব আলম।

রানীনগর ও আত্রাই উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-৬ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬ হাজার ৭২৫ জন; যাদের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৫৩ হাজার ৭৫৮ জন ও নারী ১ লাখ ৫২ হাজার ৯৬৭ জন।

ভোটকেন্দ্র ১০৪টি ও ভোটকক্ষ ৭২১টি। এ আসনে ২ জন জুডিশিয়াল ও ৩২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন