প্রেমে মানেনা সীমানা…

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ।। ছেলের বাড়ি বাংলাদেশে। মেয়ের ভারতে। পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেম। সেই প্রেমের টানে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে ছুটে এসেছিলেন প্রেমিকা। প্রেমিককের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধও হলেন তিনি। কিন্তু তাতে বাদ সেধেছে প্রশাসন। বিনা পাসপোর্টে সীমান্ত পাড়ি দেয়ার দায়ে অপরাধে তাকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তার বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে মামলাও। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার রাতে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায়।

জানা যায়, উপজেলার উত্তর কলাউড়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে আব্দুস সাত্তারের (২৭) এর সঙ্গে ৫ বছর আগে পরিচয় হয় ভারতের আসাম প্রদেশের কামরুপ জেলার চাংসারি থানার টাপারপাথার গ্রামের মুগুর আলীর মেয়ে মঞ্জুরা বেগম (২০)। এরপর তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। প্রেমের টানে মেয়েটি সীমান্ত অতিক্রম করে প্রেমিকের বাড়িতে আসেন। এরপর বিয়েও হয় তাদের।

স্থানীয়রা জানান, আব্দুস সাত্তার ৫ বছর আগে তার এক বন্ধুর প্রেম সংক্রান্ত মামলায় আসামি হন। ওই মামলায় তার বন্ধু জেল খাটে আর সাত্তার পালিয়ে যায় ভারতে।পরবর্তীতে সাত্তার দেশে এসে বাহরাইন পাড়ি জমায়। ওই সময়ও দু’জনার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক অব্যাহত থাকে। ইদানিং মঞ্জুরা বেগমের বিয়ের প্রস্তাব আসে বিভিন্ন জায়গা থেকে। মঞ্জুরা বিষয়টি সাত্তারকে জানালে সাত্তার বাংলাদেশে তার বাড়ির ঠিকানা জানিয়ে দেয়। ওই ঠিকানা অনুযায়ী গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ সীমান্তে চলে আসে ভারতীয় তরুণী মঞ্জুরা বেগম। সাত্তারের ছোট ভাই ইমরান সেখান থেকে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে।

পরে মঞ্জুরা বেগমের সম্মতিতে মোবাইল ফোনে বাহরাইনে অবস্থানরত সাত্তারের সাথে বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়। কিন্তু কাঁটাতারের সীমানা বাধা হয়ে দাঁড়ায় তাঁদের জীবনে। বিনা পাসপোর্টে সীমান্ত পাড়ি দেয়ার দায়ে বুধবার খবর পেয়ে বিজিবি আটক করে মঞ্জুরা বেগমকে। বিজিবি মঞ্জুরার বিরুদ্ধে পাসপোর্ট ছাড়া বিনা অনুমতিতে বাংলাদেশে প্রবেশ করার কারণে মামলা (নং-৮, তারিখ-১৬/৯/২০২০) দিয়ে বুধবার রাতেই দোয়ারাবাজার থানায় তাকে হস্তান্তর করে।

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজির আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিজিবি একটি মামলা দায়ের করেছে। ওই মামলার আসামি মঞ্জুরাকে বৃহস্পতিবার কোর্টে সোপর্দ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন