ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তিসহ ১০ দাবিতে রাস্তায় এমসির সাধারণ শিক্ষার্থীরা

সিলেটের সকাল রিপোর্ট ।। এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে নববধূকে গণধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে ‘কলেজের সকল সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের’ ব্যানারে এবার রাস্তায় নেমেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা  ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে তারা ১০দফা দাবি উত্থাপনও করেছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে এসব দাবিতে কলেজের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন তারা। এসময় সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অবরোধও করেন শিক্ষার্থীরা। এতে সড়কের উভয়পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি লেগে যায়। প্রায় এক ঘন্টা অবস্থানের পর কলেজ কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন তারা।

তাদের দাবিগুলো হচ্ছে-
১/- এমসি কলেজে গত ২৫শে সেপ্টেম্বর রাতে ঘটা গণধর্ষণ ও নির্যাতনের সাথে জড়িত সকল অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা।
২/- সকল অপরাধীর ছাত্রত্ব বাতিল ও সার্টিফিকেট হ্রদ করা।
৩/- ক্যাম্পাস ও হোস্টেলের সার্বিক ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৪/- কলেজ হোস্টেলকে সাবেক ছাত্র ও বহিরাগত মুক্ত করা।
৫/- পুরো কলেজ ক্যাম্পাস ও হোস্টেল সিসিটিভি ফুটেজের আওতায় নিয়ে আসা।
৬/- পুরো কলেজ হোস্টেলে রাতের বেলায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা।
৭/- কলেজ ও হোস্টেলে নিরাপত্তা বেষ্টিত সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা।
৮/- কলেজের সকল ছাত্রছাত্রীদের জন্য একটি উন্মুক্ত অভিযোগ বক্স তৈরি করা, যেখানে যে কেউ নির্যাতন বা সহিংসতা বা যে কোন ধরণের সমস্যার শিকার হলে স্বাধীনভাবে অভিযোগ করতে পারে। এবং সেই অভিযোগ বক্সের অভিযোগ সমূহকে তদন্ত ও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কলেজ প্রশাসন কর্তৃক একটি নিরপেক্ষ কমিটি তৈরি করা।
৯/- যে দুজন কর্মচারীকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে তাদেরকে পুনর্বহাল করা হোক।
১০/- সর্বপরি কলেজের সকল শিক্ষার্থী, পরীক্ষার্থী, বহিরাগত দর্শনার্থী, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনের সদস্যবৃন্দের কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান কালীন সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে গৃহবধূর স্বামী শাহপরান থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমান (২৮), শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি (২৫), তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক আহমদ (২৮), মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুম (২৫), অর্জুন লস্কর (২৫) ও রবিউল ইসলাম (২৫)।

ধর্ষণ মামলার ছয় আসামিকে আদালতে তুলে পাঁচ দিন করে রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

শেয়ার করুন