ছাত্রাবাসে তরুণী গণধর্ষণ: অভিযুক্ত ৬ জনের ৫ জনই বহিরাগত!

সিলেটের সকাল রিপোর্ট ।। সিলেটের মুরারিচাঁদ কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণে অভিযুক্ত ৬ জনের মধ্যে ৫ জনই বহিরাগত বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

কয়েক বছর আগে তাদের ছাত্রত্ব বাতিল হলেও তারা কখনো মেসে আবার কখনো রাতের আঁধারে এসে কলেজ হোস্টেলে অবস্থান করতো।

অভিযুক্ত ছয়জন হচ্ছে- কলেজ ছাত্রলীগ নেতা এম. সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেক আহমদ, অর্জুন লঙ্কর, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান।

এম সি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সালেহ আহমদ এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘একমাত্র মাহফুজুর রহমান ছাত্রাবাসে দ্বিতীয় ব্লকের আবাসিক ছাত্র। আর বাকিরা বহিরাগত। এ ঘটনার পর তার সিট সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে।’

তিনি জানান, করোনার সময় কলেজ হোস্টেলের গ্যাস লাইন কেটে রাখা হয়েছে। এরপরও এরা হোস্টেলে এসে অবস্থান করতো।

এদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্তরা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ছাত্রাবাসের একটি ব্লকের সুপারের বাসভবন দখল করে সেখানেই বসবাস করছিল। ওই ব্লকে কোন সুপার না থাকায় বাসভবনটি ফাঁকা পড়েছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রাবাসের একাধিক আবাসিক শিক্ষার্থী জানান, ‘সাইফুর খুবই উগ্র ছিল। সে বেপরোয়া চলাফেরা করত। ছাত্রলীগের মিছিল-মিটিংয়ে কোন শিক্ষার্থী না গেলে তাদের তার কক্ষে নিয়ে বেধড়ক মারধরও করত সে। এছাড়া কলেজ ক্যাম্পাসেও নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে বারবার আলোচনায় এসেছিল সে। তবুও তার কোন বিচার হয়নি। সে কারণে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে সাইফুর।’

তারা আরও বলেন, ছাত্রাবাসে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাড়া বহিরাগত প্রায় ১০-১৫ জন ছিল। এরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড করলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ এসব ব্যাপারে নির্বিকার থাকতো। এ বিষয়ে হোস্টেল সুপারকে অবগত করলেও তেমন কোনও লাভ হয়নি। যদি ওই সময়ে বহিরাগতসহ যারা নিয়ম না মেনে ছাত্রাবাসে বিশৃঙ্খলা করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতো তাহলে ছাত্রাবাসের ভেতরে ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটতো না।

শেয়ার করুন