এম সি কলেজ ছাত্রাবাস ও ক্যাম্পাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি

সিলেটের সকাল রিপোট: সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে গণধর্ষণ মামলায় গঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি এম সি কলেজ হোস্টেল ও ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেছে। মঙ্গলবার বিকেলে তারা এম সি কলেজে যান। প্রথমে তারা এম সি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সালেহ আহমদের সাথে তার কার্যালয়ে বৈঠক করেন। এরপর তারা এম সি কলেজ ছাত্রাবাস পরিদর্শনে যান।
ছাত্রাবাস পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, এ ঘটনায় এম সি কলেজের অধ্যক্ষ ও হোস্টেল সুপারের কোন গাফিলতি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাস ও হোস্টেলের নিরাপত্তাজনিত ঘাটতির বিষয়টি তারা সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, আমরা মঙ্গলবার থেকে তদন্ত শুরু করলাম। নির্ধারিত সময়ে তদন্ত রিপোর্ট দাখিলের বিষয়ে তারা সচেষ্ট থাকবেন। তিনি ভিকটিম ও তার পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন।
গত সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক মো. শাহেদুল খবির চৌধুরীকে আহŸায়ক করে তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির অপর দুই সদস্য মাউশির সিলেট অঞ্চলের উপ-পরিচালক (কলেজ) নুরে আলম এবং মাউশির সহকারী পরিচালক (কলেজ-১) লোকমান হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে লোকমান হোসেন কমিটির সদস্য সচিব।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক প্রতাপ চৌধুরী জানান, এম সি কলেজের ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ও সদস্যসচিব মঙ্গলবার দুপুরে বিমানযোগে সিলেটে আসেন। এরপর বিকাল পৌনে ৫টার দিকে তিনি এম সি কলেজ ক্যাম্পাসে যান। তদন্ত কমিটির সদস্যরা বুধবারও সিলেটে অবস্থান করবেন।
এম সি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সালেহ আহমদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির কলেজ ক্যাম্পাস পরিদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অধ্যক্ষ আরো জানান, কলেজের উদ্যোগে গঠিত তদন্ত কমিটিও মঙ্গলবার থেকে কাজ শুরু করেছে। তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে। এম সি কলেজের গণিত বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী এ কমিটির প্রধান।
এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে বেড়াতে আসা দম্পতির স্বামীকে আটকে রেখে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কলেজ ছাত্রাবাসে নববধূকে ধর্ষণ করে কয়েকজন যুবক। এ ঘটনায় ৬ ছাত্রলীগ কর্মীর নামোল্লেখসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ওই গৃহবধূর স্বামী। এদের মধ্যে প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, ৪ নম্বর আসামি অর্জুন লস্করকে সোমবার দুপুরে এবং ৫ নম্বর আসামি রবিউল ইসলামকে বিকেলে আদালতে তোলা হয়। আর ৩ নম্বর আসামি শাহ মাহবুবুর রহমান রনি এবং এজাহারে থাকা অজ্ঞাতনামা আসামি রাজন এবং আইনউদ্দিনকে মঙ্গলবার আদালতে তোলা হয়। এ ৬ জনের কারও পক্ষেই কোন আইনজীবী আদালতে ছিলেন না। এ মামলায় আটক মামলার অপর আসামী মাহফুজুর রহমান মাছুমকে বুধবার আদালতে হাজির করা হতে পারে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে। সবমিলিয়ে এ মামলায় মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শেয়ার করুন