ওসমানীনগরে ৫ হাজার টাকা ধার না দেয়ায় প্রবাসী মহিলা খুন

হত্যাকারী বাড়ির ভাড়াটে আটক


ডেস্ক রিপোর্টঃওসমানীনগরে নিহত প্রবাসী নারীর হত্যাকারি আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মহিলার বাড়ির ভাড়াটে আব্দুল জলিল ওরফে কালুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৮ জুলাই ২০২০ খ্রিঃ সিলেট জেলার ওসমানীনগর থানাধীন করনসি রোড়স্থ হেলাল ভিলা হতে ওসমানীনগর থানা পুলিশ রহিমা বেগম নামে এক প্রবাসী নারীর গলাাকাটা মৃত দেহ উদ্ধার করে। পুলিশ বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে তৎপরতা চালিয়ে যায়। এরই মধ্যে সিলেট জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম আসামী সনাক্ত ও ঘাতককে গ্রেফতার করতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মোঃ মাহবুবুল আলমের তত্ত্বাবধানে
ওসমানীনগর সার্কেল এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (দক্ষিণ) এর চৌকষ সদস্যের সমন্বয়ে একটি দল গঠন করেন। যারা প্রতিনিয়ত গোপনে ঘটনা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছিল। এক পর্যায়ে পুলিশ সুপারের বিশেষ দলটি জানতে পারে মৃত রহিমা বেগমের হত্যাকান্ডের সাথে তার বাড়ির ভাড়াটিয়া আব্দুল জলিল ওরফে
কালু জড়িত। প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয় এ ঘটনার সাথে আব্দুল জলিল এর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ১ আগস্ট রাত সোয়া ৩টায় জেলা পুলিশের বিশেষ দলটি আসামী আব্দুল জলিল কালুকে গ্রেফতার করে ওসমানীনগর থানায় নিয়ে আসে। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করার এক পর্যায়ে আসামী উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার বিস্তারিত বিবরণ পুলিশকে প্রদান করে। তার দেয়া তথ্যমতে, পুলিশ জানতে পারে গত ২৮ জুলাই বিকাল অনুমান ৫ টায় ভিকটিম প্রবাসী মৃত রহিমা বেগম ওরফে আমেনা এর কাছে ঈদ উপলক্ষে ৫০০০/- টাকা ধার চায়। তখন মৃত রহিমা বেগম আমেনা ক্ষিপ্ত হয়ে কালু-কে গালিগালাজ করে। এতে আসামী কালু ভিকটিম রহিমার প্রতি চরমভাবে ক্ষিপ্ত হয় এবং তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে বাড়ীর এক পাশে লুকিয়ে থাকে। টাকা ধার চাওয়ার অনুমান ৫ মিনিট পর প্রবাসী মৃত রহিমা বেগম প্রকাশ আমেনা বসত ঘর হতে বের হয়ে দরজার সামনের বারান্দা ঝাড়ু দেওয়ার সময় রহিমা বেগম এর অগোচরে আসামী আব্দুল জলিল ভিকটিমের ঘরের ভিতর প্রবেশ করে। ঝাড়ু দেওয়া শেষে রহিমা বেগম তার বসত ঘরে প্রবেশ করার পর ওঁৎপেতে থাকা আসামী আব্দুল জলিল কালু প্রথমে বাঁশের লাঠি দিয়ে ভিকটিমের মাথায় ২/৩ টি আঘাত করে। ফলে ভিকটিম রহিমা বেগম অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পড়ে যায়। মেঝেতে পড়ার পর ভিকটিম রহিমা বেগম নড়াচড়া করায় আসামী কালু পুনরায় বসত ঘরে থাকা একটি বটি দা দিয়ে ভিকটিমের গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে বাথরুমের দরজা বন্ধ করে ঘরের বাইরে ৩টি তালা দিয়ে বন্ধ করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভিকটিমের ব্যবহৃত সাদা রংয়ের স্যামসাং মোবাইল ফোনটি আসামীর হেফাজত হতে উদ্ধার করা হয়।
সিলেট জেলার পুলিশ সুপারের বরাত দিয়ে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর ও মিডিয়া) মোঃ লুৎফর রহমান জানান, আদালতের মাধ্যমে আসামীকে বিচারের আওতায় আনতে সিলেট জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

 

শেয়ার করুন