লিবিয়ায় মানবপাচার:রাজা ম্যানশনের ইয়াহিয়া ট্রাভেলসের মালিক এনামুলসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

সিলেটের সকাল রিপোর্ট: সিলেট নগরীর রাজা ম্যানশনের আলোচিত ইয়াহিয়া ওভারসিজের মালিক এনামুল হকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনে দায়ের করা একটি মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সিলেটের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাওছার আহমদের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ইকোনমি ক্রাইম স্কোয়াডের পরিদর্শক মো. শহিদুল ইসলাম খান এ অভিযোগপত্র জমা দেন।
লিবিয়া থেকে ইতালিতে মানবপাচারকারী স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রের ৬ জনকে চার্জশিটভূক্ত আসামী করা হয়েছে।
চার্জশিটে সিলেটের রাজা ম্যানশনের নিউ ইয়াহিয়া ওভারসিজের মালিক এনামুল হক ছাড়াও সিলেটের গোলাপগঞ্জের জায়েদ আহমেদ, ব্রাক্ষণবাড়িয়ার রাজ্জাক হোসেন, নোয়াখালির মনজুর হোসেন রুবেল, ইয়াকুব রিপন ও আন্তর্জাতিক চক্রের মূল হোতা লিবিয়া প্রবাসী নাসির উদ্দিন রুমান ওরফে গুডলাক-কে আসামি হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
আসামীদের মধ্যে এনামুল হক ও আব্দুর রাজ্জাক কারাগারে রয়েছে। বাকিরা পলাতক। তবে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ঢাকার সাইফুল ইসলামকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

২০১৯ সালের ৯ মে লিবিয়া থেকে ইতালি যাবার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে মারা যান বেশ কিছু বাংলাদেশীসহ অন্তত ৬৫ জন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই সিলেটের বাসিন্দা।

এ ঘটনায় ওই বছরের ১৬ মে রাতে সিলেটের আলোচিত মানবপাচারকারী এনামুল হকসহ ২০ মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ভূমধ্যসাগরে নিহত আব্দুল আজিজের ভাই ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মুহিদপুর গ্রামের মফিজ উদ্দিন। সিআইডির ইকোনমি ক্রাইম স্কোয়াড প্রায় এক বছর তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার আদালতে মামলার চার্জশিট জমা দেন।

মামলার তদন্তকালী কর্মকর্তা জানান, মানবপাচারকারী এই চক্রটি স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে বিদেশ যেতে আগ্রহীদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়া নিয়ে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভূমধ্যসাগর দিয়ে নৌকাযোগে ইতালি পাঠাতো। এছাড়া, এ চক্রটি লিবিয়ায় মানুষকে জিম্মি করে দেশে থাকা স্বজনদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতো।

ভূ-মধ্যসাগরে নিহত ফেঞ্চুগঞ্জের আব্দুল আজিজের ভাই মফিজ আহমদ জানান, ২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বর রাজা ম্যানশন ইয়াহিয়া ওভারসীজ’র মাধ্যমে তার ভাইসহ চারজনকে ইতালি পাঠানোর জন্য জনপ্রতি ৭ লাখ টাকা করে দেয়ার চুক্তি হয়। কথা ছিল সরাসরি ফ্লাইট দেবে। কিন্তু তাদের ৩ দেশ ঘুরিয়ে লিবিয়াতে নিয়ে রাখা হয় ৫ মাস। এই সময়ে ৩/৪ দিন পরপর তাদের খেতে দেওয়া হতো। ট্রাভেলসের মালিক এনাম আহমদের কাছে মানুষ ফেরত চাইলেও ওদের জিম্মি রেখে আরো ৩ লাখ টাকা করে বাড়তি আদায় করেছে।
মফিজ আহমদ আরো বলেন, ট্রাভেলসের এনাম বলেছিলেন, তাদের জাহাজে পাঠানো হবে। কিন্তু পাঠানো হয়েছে নৌকাতে। আর ৪০ জনের নৌকায় তোলা হয়েছিল ৮৬ জন। যে কারণে নৌকা সাগরের মধ্যেই ডুবে যায়।

শেয়ার করুন