বিচারক জীবনের ইতি টানলেন বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ

এতিম বাচ্চাদের ভালোবাসায় শেষ বিদায় নিতে চাই

সিলেটের সকাল রিপোর্ট:১১টি এতিমখানার সাথে সম্পৃক্ত সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ বিচারক জীবনের ইতি টেনেছেন। বিদায়ী সংবর্ধনায় সিলেটের কৃতি সন্তান এ বিচারক বলেন, “এসব এতিমখানায় আমার হাজার হাজার ছেলে-মেয়ে আছে। আমার শেষ ইচ্ছা, এতিম বাচ্চাদের মাঝে থেকে তাদের ভালোবাসায় আমি বিদায় নিতে চাই। পরম সৃষ্টিকর্তার কাছে আমার আন্তরিক প্রার্থনা, গোটা বিশ্বের সকল মানুষকে এই মহামারি থেকে রক্ষা করুক। সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।”

উচ্চ আদালতে প্রায় দশক ধরে বিভিন্ন মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায় প্রদানকারী বিচারক হলেন ভবানী প্রসাদ সিংহ।

শেষ কর্মদিবসে বৃহস্পতিবার অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংবর্ধনা দিয়ে তাকে বিদায় জানানো হয়।

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিনসহ প্রায় শতাধিক আইনজীবী অনুলাইনে যুক্ত ছিলেন এ বিচারকের বিদায় সংবর্ধনায়।

উচ্চ আদালতে প্রায় দশ বছরের বিচারিক জীবনে বহু মামলার রায় দিয়েছেন ভবানী প্রসাদ সিংহ।

তার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইংরেজি বিভাগের ছাত্র জুবায়ের আহমেদ হত্যা, জাসদ ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর শাখার সহ সাধারণ সম্পাদক মোমিন, লক্ষ্মীপুরে স্কুলছাত্রী স্মৃতি নাথ সীমাকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং নরসিংদীর ছয় হত্যার মত আলোচিত মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায় রয়েছে এ বিচারকের।

বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ১৯৫৩ সালের ৮ অগাস্ট সিলেটের নগরীর মাছিমপুরে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা সুদীশ চন্দ্র সিংহ, মা কৃষ্ণভানু রাজকুমারী।

ইংরেজি সাহিত্যে উচ্চশিক্ষা শেষ করে এলএলবি করেন। ১৯৭৯ সালের ১ মার্চ সিলেট জেলা বারে আইনজীবী হিসেবে তালিকভুক্ত হন।

১৯৮৩ সালের ২০ এপ্রিল মুনসেফ হিসেবে (সহকারী জজ) বিচারক জীবন শুরু করেন। ২০০০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান।

এরপর ২০১০ সালের ১২ ডিসেম্বর তাকে দুই বছরের জন্য হাই কোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে ২০১২ সালের ১০ ডিসেম্বর হাই কোর্টের স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান।

সংবিধান অনুসারে ৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হলে অবসরে যান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা। সেই অনুসারে ৭ আগস্ট তার ৬৭ বছর পূর্ণ হবে। এর মধ্যে শুক্রবার (২৪ জুলাই) থেকে সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি শুরু হচ্ছে। এ কারণে বৃহস্পতিবার ছিল তার বিচারক জীবনের শেষ কার্য দিবস।

করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজকদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ বলেন, “বার ও বেঞ্চ একে অপরের পরিপূরক। বার ছাড়া যেমন বেঞ্চের অস্তিত্ব থাকে না, তেমনি বেঞ্চ ছাড়া বারের অস্তিত্ব থাকে না। তাই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এবং বিচারপ্রার্থী জনগণকে সুষ্ঠ ও ন্যায়বিচার প্রদানের জন্য বার ও বেঞ্চের মধ্যে সুন্দর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকা অত্যন্ত আবশ্যক।

“আমার বিচারিক কার্যক্রমে আমি আপনাদের সঙ্গে সুন্দর ও সোহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। আদালতের কার্যক্রমে আপনারা সক্রিয় অংশ গ্রহণ করে আমাকে সহযোগিতা করেছেন, সেজন্য আপনাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।”

এর আগে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন এ বিচারককে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য দেন।

অনলাইনে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দৃস কাজল।

শেয়ার করুন