এবারও মুসল্লিশূন্য থাকছে শাহী ঈদগাহ!

ফাইল ছবি

সিলেটের সকাল রিপোর্ট ।। গত ঈদুল ফিতরের পর এবারও ঈদুল আজহায় মুসল্লিশূন্য থাকছে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শাহী ঈদগাহ ময়দান। বৈশ্বিক মহামারি করোনা বদলে দিয়েছে শত বছরের ইতিহাস।

করোনা বিস্তার রোধে শনিবার অনুষ্ঠিতব্য ঈদুল আজহার জামাত ঈদগাহ ও খোলা মাঠে অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসলামী ফাউন্ডেশন। সেই প্রেক্ষিতে শাহী ঈদগাহে ঈদের জামাত অনুষ্ঠান না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সিলেটের প্রধান ঈদ জামাত এ ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হয়।

সিলেট শহরের উত্তর সীমায় শাহী ঈদগাহ বা ঈদগাহ মাঠের অবস্থান। বাংলাদেশের প্রাচীনতম ঐতিহাসিক স্থাপনা সমুহের মধ্যে ১৭০০ সালের প্রথম দিকে নির্মিত সিলেটের শাহী ঈদগাহকে গণ্য করা হয়। এরপর থেকেই এ মাঠে দুই ঈদের নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। তবে করোনার কারণে ৩০০ বছরের ইতিহাসে মুসল্লিশূণ্য থাকছে এ ঈদগাহ।

একটি উচু টিলার উপর সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এই শাহী ঈদগাহ অবস্থিত। মুল ভূ-খন্ডে কারুকার্যখচিত ২২টি বৃহৎ সিঁড়ি রয়েছে। সিঁড়ি মাড়িয়ে উপরে উঠলে ১৫টি গম্বুজ সজ্জিত ঈদগাহ দেখা যায়। ঈদগাহের প্রাচীর সীমার চার দিক ঘিরে রয়েছে ছোট বড় ১০ টি গেইট। ঈদগাহের সামনে মুসল্লীদের অজুর জন্য রয়েছে বিশাল পুকুর ।

সিলেট শহরের এ স্থানটি নানা কারণে মানুষের কাছে আকর্ষণীয় ও স্মরণীয়। ১৭৭২ সালে ইংরেজ বিরোধী ভারত – বাংলা জাতীয়তাবাদীর প্রথম আন্দোলন সৈয়দ হাদী ও মাদী কর্তৃক এই ঈদগাহ মাঠেই শুরু হয়েছিল।

অতীতে সিলেটের বড় বড় সমাবেশের স্থান ছিল এটি। এখানে ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধী, কায়দে আযম, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, মাওলানা মোহাম্মদ আলী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হকের মতো নেতারা এসেছেন এবং ইংরেজ বিরোধী গণ আন্দোলের আহবান জানিয়েছেন। যে কারণে এ স্থানটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনেক।

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া

শেয়ার করুন