সিলেটসহ ৯ জেলায় সহসাই বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছেনা

সিলেটের সকাল রিপোর্ট ।। সিলেটসহ দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নয় জেলায় সহসাই বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হচ্ছেনা। রোববারও টানা বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে এসব জেলার নদ-নদীর পানি বেড়েছে। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে অনেক নিম্নাঞ্চল। এ কারণে বেশ ভোগান্তিতে পড়েছেন পানিবন্দি মানুষ।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ বুলেটিন অনুসারে আগামী তিন দিন দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও নেত্রকোনা জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, সিলেটে সুরমা ও সারি নদীর পানির উচ্চতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। সুরমা নদীর পানি রোববার সন্ধ্যা ৬টায় সিলেট পয়েন্টে বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কানাইঘাট পয়েন্টে প্রথম দিন থেকেই পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৬১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে, জৈন্তাপুর-কানাইঘাট গোয়াইনঘাটে পানি সামান্য কমলেও বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত আছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়ও প্লাবিত হয়েছে গ্রামীণ জনপদ।

রোববার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের ১০১টি পর্যবেক্ষণাধীন পানি স্টেশনের মধ্যে ৮৬টিতে পানি বাড়ছে, ১৩টিতে কমছে এবং দুটি অপরিবর্তিত রয়েছে। তার মধ্যে ১৪টি স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তার মধ্যে ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর গাইবান্ধা পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদীর নুনখাওয়া পয়েন্টে ৫৩ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদীর পয়েন্টে ৬৬ সেন্টিমিটার, যমুনা নদীর ফুলছড়ি পয়েন্টে ৫৯ সেন্টিমিটার, যমুনার বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে ৫২ সেন্টিমিটার, যমুনার সারিয়াকান্দি পয়েন্টে ২৯ সেন্টিমিটার, যমুনার কাজিপুর পয়েন্টে ৩০ সেন্টিমিটার, যমুনার সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার, সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে ৬১ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে ৭০ সেন্টিমিটার, জাদুকাটা নদীর লরেরগড় পয়েন্টে ৯০ সেন্টিমিটার এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টে বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের বাংলাদেশ অংশে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৯টা থেকে রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত বাংলাদেশের লরেরগড়ে ৩৬০ মিলিমিটার, লালাখালে ১৭৫, মহেশখোলায় ২৪০, ছাতকে ১৩০, সুনামগঞ্জে ২১৩ এবং জারিয়াঞ্জাইলে ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আর ভারতের অংশের চেরাপুঞ্জিতে ৫৭২, দার্জিলিংয়ে ৬৯, শিলংয়ে ৮৮ ও কৈলাসরে ৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

শেয়ার করুন