মিষ্টি আলু নিয়ে গবেষণা: সিকৃবি থেকে আবু শাহাদাতের পিএইচডি লাভ

সিকৃবি সংবাদদাতা ।। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আবু শাহাদৎ হোসেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হতে ‍‘ASSESSMENT OF SWEETPOTATO GENOTYPES FOR HIGHER YIELD AND NUTRITION IN PIEDMONT SOIL’ বিষয়ে PhD ডিগ্রী অর্জন করেছেন। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়েছে।

আবু শাহাদৎ মিষ্টিআলুর স্থানীয় জার্মপ্লাজম উন্নয়নের লক্ষ্যে ৪টি জার্মপ্লাজম সিলেট অঞ্চল হতে সংগ্রহ করে দেশের বাহিরের ৪টি জার্মপ্লাজম এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর ১টি উন্নত মিষ্টিআলুর জাতের সাথে ২০১৫-২০১৮ সময়ের মধ্যে সিলেট জেলার পাহাড়ী এলাকার তিনটি মৃত্তিকা সিরিজে কিছু নির্ণয়ক যেমন- বাহ্যিক অঙ্গসংস্থানিক ও শারীরতাত্বিক বৈশিষ্ট, ফলন, পুষ্টিমান, স্বাদ-ঘ্রাণ, রোপন সময় এবং খরচ-সাশ্রয়ীতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করেছেন।

উক্ত গবেষণায় (১) Local-1 ও Local-8 নামীয় দুটি উচ্চ মাত্রার, এবং Local-2 ও Exotic-3 নামীয় দুটি মধ্যম মাত্রার ফলন প্রদানকারী জার্মপ্লাজম পাহাড়ের পাদদেশীয় মাটির উপযোগী হিসেবে সনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে Local-8 ও Local-2 স্বল্প মেয়াদি (<১২০ দিন), এবং Local-1 ও Exotic-3 মধ্যম মেয়াদি (১২০-১৫০ দিন) জার্মপ্লাজম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, (২) রাসায়নিক ও অর্গানোলেপটিক পরীক্ষায় Local-1, Exotic-3 এবং Local-8 মিষ্টিআলুর পাতা অধিক পুষ্টিমান (ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, জিংক, এন্টিঅক্সিডেন্ট) সমৃদ্ধ হওয়ায় শাক হিসাবে সারা বছরের জন্য ব্যবহার উপযোগী, (৩) Local-2 জার্মপ্লাজম অধিক স্টার্চ সমৃদ্ধ হওয়ায় শিল্প হিসেবে ব্যবহার উপযোগী, (৪) Local-2 ও Exotic-3 এদের মিষ্টিআলু সালাদ হিসেবে, এবং Local-1 ও Local-8 এদের মিষ্টিআলু সিদ্ধ করে খাওয়ার অধিক উপযোগী, (৫) Local-2 ও Exotic-3 এদের মিষ্টিআলুতে পর্যাপ্ত বেটা-ক্যারোটিন রয়েছে, যা ভিটামিন-এ এর চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে, (৬) Local-2 ও Local-8 অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে এবং Local-1 ও Exotic-3 নভেম্বরর প্রথম সপ্তাহে রোপন করলে কম খরচে অধিক ফলন পাওয়া যায়। সুতরাং উক্ত জার্মপ্লাজম চারটি দেশের অন্যান্য এলাকায় আঞ্চলিক ফলন পরীক্ষা সম্পন্নের ভিত্তিতে জাত হিসেবে অবমুক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় দেশ এগিয়ে যাবে।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. এ এফ এম সাইফুল ইসলাম (তত্বাবধায়ক), প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নূর হোসেন মিয়া (কো-তত্বাবধায়ক) এবং প্রফেসর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান খান (সদস্য, পিএইচ.ডি সুপারভাইজরি কমিটি) তার গবেষণা কার্যক্রম তত্বাবধান করেন।

মো. আবু শাহাদৎ হোসেন ১৯৭৫ সনের ১৫ জুলাই গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার অন্তর্ভূক্ত যাদুর তাইড় গ্রামে মাতা- আমেনা বেগম এবং পিতা- মো. খলিলুর রহমান আকন্দ এর পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি বিবাহিত এবং এক কন্যা সন্তানের জনক। তিনি সকলের নিকট দোয়া প্রার্থী।

শেয়ার করুন