দোয়ারাবাজারে মাদ্রাসা ভবনে বালু সরবরাহ নিয়ে সংঘর্ষে প্রাণ গেলো এক ব্যক্তির

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি :সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের পল্লীতে মাদ্রাসা ভবন নির্মাণকাজে বালু-পাথর সংগ্রহ নিয়ে দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত আব্দুন নুর (৫৫) ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। নিহতের পুত্র সোহেল আহমদের অবস্থাও আশংকাজনক। সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের দ্বীনেরটুক গ্রামে। নিহত আব্দুন নুর (৫৫) ওই গ্রামের মৃত আজমান আলীর পুত্র। আহত হয়েছেন নিহতের স্ত্রী , তার তিন পুত্র সোহেল আহমদ, রাসেল আহমদ ও জুয়েল আহমদ এবং একই গ্রামের রবিউল হকের পুত্র মর্তুজ আলী (৩৫) সহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন। গুরুতর আহত আব্দুন নুর ও তার পুত্র সোহেল আহমদকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মঙ্গলবার (২ জুন) সন্ধ্যার দিকে কর্তব্যরত ডাক্তার আব্দুন নুরকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তার ছেলে সোহেল আহমদকে আশংকাজনক অবস্থায় লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তাদের মাথা, বুক ও গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে সুলফির আঘাত রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকালে (১ জুন) স্থানীয় দ্বীনেরটুক আলিম মাদ্রাসার অনুমোদিত নতুন চতুর্থ তলা ভবনের নির্মাণকাজ সফল করার লক্ষ্যে মাদ্রাসার গভর্ণিং বডির সদস্যসহ স্থানীয় সচেতন মহল এক পরমর্শ সভায় বসেন। সভায় ভবনের নির্মাণকাজের চাহিদা মোতাবেক বালু-পাথর সংগ্রহ নিয়ে দু’পক্ষে প্রথম দফা বাক-বিতন্ডা হয়। এরই জের ধরে পরদিন মঙ্গলবার (২ জুন) বিকালে দ্বীনেরটুক গ্রামের আব্দুন নুর ও প্রতিপক্ষ মর্তুজ আলীর পক্ষদ্বয়ের মধ্যে সুলফি, ঝাঁটাসহ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে তুমুল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে আব্দুন নুর ও তার পুত্র সোহেল আহমদ গুরুতর আহত হন। গুরুতর জখমী পিতাপুত্রকে আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকিদের বিভিন্ন হাসপাতালসহ স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার থানার এএসআই রাকিবুল হাসান রাত পৌনে ৮টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হন বলে জানিয়েছেন। ওসি আবুল হাশেম বলেন, সন্ধ্যায় খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হলে ঘটনাস্থলে চাহিদামাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানান ওসি।

শেয়ার করুন