করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি দ্বিতীয়বার পরীক্ষার সুযোগ পাবেন না

ডেস্ক রিপোর্টঃ করোনাভাইরাস পজিটিভ ব্যক্তি চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ার পর তার আর টেস্ট করার দরকার হবে না-এমন গাইডলাইন চূড়ান্ত করে স্বাস্থ্য বিভাগকে দিয়েছেন আইইডিসিআর এর গবেষকরা। নতুন এই গাইডলাইন শিগগিরই কার্যকর হবে বলে আশা করছেন তারা। এক বিশেষ প্রতিবেদনে এখবর জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।

প্রতিবেদনে আইইডিসিআর উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেনের বরাত দিয়ে বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি পজিটিভ শনাক্ত হবে সে আইসোলেশনে থাকবে এবং জ্বর চলে গেলেও এবং তিনদিন প্যারাসিটামল না খাওয়ার পরও তার জ্বর না থাকলে, সে সুস্থ বলে গণ্য হবে।

তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে কোন ব্যক্তি পজিটিভ শনাক্ত হবার পর সুস্থ হয়ে উঠলে, তাকে নেগেটিভ হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে নমুনা সংগ্রহের তারিখ থেকে মোট তেরদিন পর্যন্ত হিসাবে গণ্য করা হবে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই হিসাব হবে ১৪দিনের বলে নতুন গাইডলাইনে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ডা. মুশতাক হোসেন জানান, এর অর্থ পজিটিভ শনাক্ত রোগীর নমুনা সংগ্রহের তারিখ থেকে তাকে নেগেটিভ বলে পরিগণিত করা হবে ১৪ দিন পর।

তিনি আরও বলেন, যেসব দেশের সক্ষমতা আছে তারা দু’টি টেস্ট করাতে পারে কিন্তু আমরা যে খসড়া তৈরি করেছি, তাতে ১৪ দিনের কথা বলা হয়েছে। এরপর সুস্থ হওয়া ব্যক্তিকে নেগেটিভ হিসেবে গণনা করা হবে।

তবে কারও জ্বর যদি ১৪ বা ১৫ দিনের মাথায় সেরে যায় তাহলে তারপরের তিনদিন যদি প্যারাসিটামল ছাড়া জ্বর না আসে তাহলে তখন থেকে অর্থাৎ ১৭/১৮ দিন থেকে তিনি সুস্থ বলে গণ্য হবেন।

ওদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সূত্রও এটি নিশ্চিত করেছে যে বাংলাদেশে এখন কোনো ব্যক্তি পজিটিভ হলে চিকিৎসা নেওয়ার পর দু’টি আরটি পিসিআর পরীক্ষায় যে নেগেটিভ ফল আসতে হতো, সেটি আগামীতে আর করা হবে না।

তবে বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। যদিও ডা. মুশতাক হোসেন বলছেন দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এটি ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে বলে তিনি আশা করছেন।

তিনি বলেন, উপসর্গ দেখা দিলে রোগী আইসোলেশনে থাকবেন বা প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি হবেন। এরপর সুস্থ হওয়ার পর তার আর কোনো টেস্টের প্রয়োজন নেই।

মুশতাক হোসেন বলেন, যেসব রোগী জটিল অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তাদের টেস্ট করা বা না করার পুরো বিষয়টি সম্পর্কে হাসপাতাল ও চিকিৎসক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে রোগী সুস্থ হওয়ার পরেও টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসছে এবং তা নিয়ে রোগী ও হাসপাতালের মধ্যে ঝামেলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে অনেক সময় ডেড ভাইরাসের কারণেও রোগীকে পজিটিভ দেখাতে পারে টেস্টে। সেক্ষেত্রে জ্বর থাকলে তাকে আইসোলেশনেই থাকতে হবে। তবে তার মধ্যে থাকা এই ভাইরাস অন্যদের সংক্রমিত করবে এমন কোনো বৈজ্ঞানিক তথ্য নেই। ফলে নতুন করে টেস্টের প্রয়োজন নেই।

শেয়ার করুন