নির্মোক

অধ্যাপক ড. নিলুফা আকতার

দেয়ালটা ভেঙে দাও ; নয়তো ওপাশের বন্ধ দরজাটা খুলে দাও
অন্তত জানালাটা দাও খুলে, আলো আসুক।
মানুষ দিন দিন বড্ড আবছা হয়ে যাচ্ছে!
মানুষের মুখ এতো অস্পষ্ট, কাঁহাতক সহ্য হয়!
চোখ দেখা গেলে নাক নয়; আবার নাক হলে ঠোঁট নয়! এতো আন্তরিক যাপনের পরেও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো
হঠাৎ তীব্র বিভাজন নিয়ে ধোঁয়াশা হয়ে যায়!
কেমন যেন এলোমেলো, অদ্ভুত, উদ্ভট মুখাবয়ব নিয়ে
মুখোমুখি মানুষী-মুখ আজ!
যেখানে তার নিজস্ব কায়া নেই
ছায়া নেই
তাই স্বরূপও নেই!
উল্কাপতনের মত বিস্মিত স্পষ্টতা নিয়ে নিমিষেই অদৃশ্যে পতিত হয়ে যায় মানুষের উর্ধ্বমুখী মুখ!
এভাবেই ক্রমশ মানুষ পতনে পতিত হয়।

মানুষ তোমার অন্তর্গত চেহারা দৃশ্যমান করো
যা তোমার নিজস্ব, যা আসলে ‘তুমি’!

অবগুণ্ঠিত নববধূর উপলেপ যে মুখ
কিংবা নরসুন্দরের নিবিড় পরিচর্যায় উজ্জ্বল
আপাত সুঠাম যে দেহ-মুখ তাদের পরস্পরকে
প্রেমার্ত কামার্ত করে,
নাহ্ মানুষ! সেই আস্তরিত সম্পর্ক নয়!
ওখানে বড্ড বেশী অন্ধকার-ছায়া খেলা করে।
আলোর বিপরীতে দেহ প্রতিবিম্ব সে নয়!
ঐ অন্ধকার ছায়ার খেলা, সে তো অবিশ্বস্ত, অসুস্থ, স্বস্তিহীন!
ভেতরটায় ত্রাস জাগায় ; গ্রাস করে নিতে চায় সবকিছু!

মানুষ তোমার নির্মোক উন্মোচন করো
সাপের খোলস কী মানুষী দেহে কাম্য?
তুমি তো সর্প নও, তবে কেন খোলস বদলাও?
অগোচরে ফণা তুলে রাখো দংশনের!

মানুষ, এবার অন্তত পর্দাটা সরাও,
নিজস্ব চেহারাটা আয়নায় দেখো,
মানুষের মত স্পষ্ট হও,
যেন চোখ ত্বক ভেদ করে ভেতরটা দেখতে পারে
একে অন্যের!

মানুষ তুমি স্পষ্ট হও! স্বচ্ছ হও!
তুমি তো এ্যামিবা নও ; গিরগিটিও নও!
তবু কেন এতো বর্ণচোরা?
মানুষ তুমি, তবে মানুষ নও কেন?
তুমি মানুষ হও!!

লেখক:: অধ্যাপক ড. নিলুফা আকতার, বাংলা বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-সিলেট।

শেয়ার করুন