করোনাভাইরাস: যখন প্রিয়জনকেও ঠিকভাবে বিদায় জানানো যায় না

প্রিয়জনদের ঠিকমতো বিদায় জানাতে পারছেন না অনেক স্বজন

বিবিসি বাংলা: যখন কেউ তার প্রিয়জনকে হারায়, সেই কষ্ট সামলানো প্রত্যেকের জীবনের কঠিন সময়গুলোর একটি। কিন্তু এখন স্বজনকে বিদায় জানানোর সেই ব্যাপারটিকে আরও কঠিন আর বেদনা-বিধুর করে তুলেছে করোনাভাইরাস।

এখনকার চরম বাস্তবতা হলো, ভাইরাসের আক্রমণ থেকে সবাইকে নিরাপদ রাখা।

ফলে খুব অসুস্থ এবং মৃত্যু পথযাত্রী ব্যক্তিরাও তাদের স্বজনদের পাশে পাচ্ছেন না।

সাধারণত যেভাবে শেষকৃত্যানুষ্ঠান করা হয়ে থাকে, সেভাবে হচ্ছে না।

মানুষজন এমনকি একসাথে মিলে শোক পালনও করতে পারছে না।

তারপরেও প্রিয়জনকে স্মরণ করতে, তার জন্য শোক করার জন্য অর্থবহ কিছু উপায় রয়েছে।

’সবচেয়ে কঠিন হলো একত্রে থাকতে না পারা’

নর্থফোক এন্ড নরউইচ ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ আইক স্কিনডারের ৯৯ বছর বয়সী দাদাকে যখন বক্ষব্যাধির সমস্যা নিয়ে গত সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি করা হলো, তখন তিনি জানতেন যে, তার দাদা হয়তো আর বাড়িতে ফিরে আসবেন না।

’’সাধারণ সময় হলে হয়তো আমাদের কেউ তাঁর সঙ্গে যেতাম। সেখানে হয়তো আমরা তার ব্যাপারে আলোচনা করতাম এবং পরিবারের সদস্যদের জানাতাম। কিন্তু এখন তার বদলে তার সঙ্গে এখন আমাদের রিমোট যোগাযোগ করতে হচ্ছে।’’ তিনি বলছেন।

তিনি বলছিলেন, লন্ডন রয়েল ফ্রি হাসপাতাল খুব ভালো একটি হাসপাতাল, কিন্তু টেলিফোনে কথা বলার জন্য সেখানে খুব কম সময় পাওয়া যায়।

সেখানে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যে, হাসপাতালে শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি দেখা করতে পারবেন।

কিন্তু তাকেও মাস্কসহ সুরক্ষা সরঞ্জাম পরতে হবে।

এরপর পরবর্তী ১৪দিন তাকে আইসোলেশনে থাকতে হবে। তিন ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট, স্কিনডারের খালা তাকে দেখতে গিয়েছিলেন।

“একপর্যায়ে আমরা বুঝতে জানতে পারলাম, সেখানে একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু সেটা জানার পরেও আমার ওই খালা সেখানে অংশ নিতে পারেননি, কারণ তখন দাদাকে দেখে আসার কারণে তিনি আইসোলেশনে রয়েছেন।”

মি. স্কিনডার বলছেন, যখন তার দাদার মৃত্যু হয়, তখন পরিবারের সবাই বুঝতে পারছিলেন যে, এখানে নতুন করে আর কিছু করার নেই।

তবে সবচেয়ে দুঃখের বিষয়টি ছিল এরকম একটি সময়েও পরিবারের সদস্যদের একত্রিত হতে না পারা।

যেদিন শেষকৃত্যানুষ্ঠান হয়, সেদিন তিনি বাড়িতে আইসোলেশনে ছিলেন, কারণ তার দুই বছর বয়সী শিশুটি জ্বরে ভুগছিল।

দাদার শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত হতে না পেরে জুমের মাধ্যমে ইন্টারনেটে প্রচারিত হয়।

তাদের ১২জন আত্মীয় পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বসে সেই অনুষ্ঠান দেখেন।

শুধুমাত্র তার মা, বাবা আর বোনরা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। তার পিতামাতার কাছ থেকে দুইমিটার দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন বোন।

শেষকৃত্যানুষ্ঠানের পরে পরিবারের সদস্যরা আরেকটি জুম অ্যাপ ব্যবহার করে আরেকটি মিটিং করেন।

সেখানে তারা সদ্য বিদায়ী দাদার স্মরণে নানা গল্প করেন, টোস্ট পান করেন পুরো ব্যাপারটি হয় রিমোট বা দূর প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

মি. স্কিনডার বলছেন, “এটা একেবারেই বাস্তবের মতো লাগছিল না।”

শেয়ার করুন