এ যাত্রায় বেঁচে গেলে

এ যাত্রায় বেঁচে গেলে, ভীষণ করে বাঁচবো,
সবাইকে জড়িয়ে ধরে অনেক করে কাঁদবো।
এ যাত্রায় রেহাই যদি পাই, অন্যের কথা ভাববো।

যার যেখানে অংশ আছে হিসেব গুলো চুকিয়ে দেবো,
একাকী নীড়ের ছানা, দু মুঠো খেলো কিনা- খবর নেব,
এ যাত্রায় বেচেঁ যদি যাই, অন্যদের আগে বাঁচতে দেব।

ঘর থেকে বেড়িয়ে প্রথম নদীর কাছে ক্ষমা চাবো,
বন পাহাড় আর সাগর দেশে বিনয় হেসে নত হবো,
এ যাত্রায় বেঁচে গেলে আমি ঋণ না হয়ে পরিশোধ হবো।

আর হবো না অহংকারী, আর হবো না রাশভারী,
থামিয়ে দেব লোভ লালসার রাহাজানি, ধর্ম নিয়ে মহাজনী,
পবিত্র প্রাণের ইবাদত হবো।
এ যাত্রায় বেচেঁ বর্তে গেলে, মানুষের তরে মানুষ হব।

নতুন করে স্কুলে যাবো, কলেজে যাবো,
মামার হাতের ফুচকা খাবো, চায়ের কাপে ঝড় ওঠাবো।
বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দেব, হাসি গুলো ছড়িয়ে দেব,
ঘুড়ি ওড়াবো রংবেরঙের, নৌকা হবো মুক্ত পালের।

এ যাত্রায় বেচেঁ যদি যাই,
দূর্বলের কাছে আর যম হবো না,
হরিণ ঘাতক তীর হবো না,
অসৎ পথের ভিড় হবো না,

সত্যি যদি রেহাই পাই, বেঁচে যদি যাই এ যাত্রায় একটি বার,
যত অন্যায় পুষিয়ে দেব, যত হিংসা মিটিয়ে দেব।

বাড়ি ফিরলে এবার,
মায়ের শাড়ির আঁচল হবো, বউ এর চোখের কাজল হবো, ছেলের কাছে ঘোড়া হবো।

আর যদি না বাঁচি, যদি হারিয়ে যাই ঐ একাকী অন্ধকারের দেশে,
অন্তত দূর আকাশের চাঁদটি হবো, যতটুকু পারি আলো ছড়াবো।

সহস্র সুমন
লেখক ও কবি

শেয়ার করুন