আসামে ডিটেনশন ক্যাম্পে ফের বাঙালির মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।। করোনা-সংক্ৰমণ নিয়ে বাড়তি সতর্কতার মধ্যেও ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে মুক্তি নেই নাগরিক প্রমাণে ব্যর্থদের। অথচ দাগি অপরাধীরা অনেকেই ইতিমধ্যে ছাড়া পেয়েছেন। এ অবস্থায় লকডাউনের মধ্যেই অসমের ডিটেনশন ক্যাম্পে আরও এক বাঙালির মৃত্যু হল। এ নিয়ে বন্দিশালায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩০।

দু’বছরেরও বেশি ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দিদের মুক্তির বিষয়ে মঙ্গলবারই সুপ্রিম কোর্ট নোটিস দিয়েছে কেন্দ্র ও অসম সরকারকে। সুপ্রিম কোর্টে বার বার আবেদন করেও ক্যাম্প থেকে মুক্তি পাননি কোকরাঝাড় বন্দিশালায় ২০১৮ – র ফেব্রুয়ারি থেকে আটক রোবেদা বেগম (৬২), ওরফে রোবা বেগম। ক্যান্সারে ভুগছিলেন। মৃত্যুর পর অবশ্য তিনি ভারতীয়। মানবাধিকার কর্মী সাধন পুরকায়স্থ বলেন, বাংলাদেশের বদলে ডিমা হাসা জেলায় তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হল দেহ। তা হলে মরলে স্বদেশি, আর বাঁচলে বিদেশি!’

অসমের নাগরিক অধিকার সুরক্ষা সমন্বয় সমিতির চেয়ারম্যান তপোধীর ভট্টাচার্যের মতে, এই ডিটেনশন ক্যাম্পগুলি তৈরিই হয়েছে বাঙালি-নিধনের জন্য! করোনা নিয়ে এই মহামারীর সময়ও বন্দিদের মুক্তি দিচ্ছে না। বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। উল্লেখ্য, মার্চ মাসে সংসদে দেওয়া কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র-রাষ্ট্রমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাইয়ের তথ্য অনুযায়ী অসমের ৬টি জেলের ভিতর অবস্থিত ডিটেনশন ক্যাম্পে ৮০২ জন রয়েছেন। রোবার মৃত্যুতে সংখ্যাটি কমে দাঁড়াল ৮০১। আর ২০১৬ থেকে এখন পর্যন্ত। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩০।

অসমের ডিটেনশন ক্যাম্পের আবাসিকদের মুক্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে সামাজিক সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড লিবার্টি ইনিশিয়েটিভ। তাতে ডিটেনশন ক্যাম্পগুলিতে সংক্রমণের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। বন্দী রাজুবালা দাশও দু’বছরের বেশি আটকদের মুক্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানান। জবাবে মঙ্গলবার সর্বোচ্চ আদালত অসম ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নোটিস পাঠিয়েছে। কিন্তু তার আগেই মৃত্যু হল রোবার।

সৌজন্য- যুগশঙ্খ

শেয়ার করুন