সিলেটে হোম কোয়ারেন্টাইনে ১৭৪৭ জন, বাকিরা কোথায়?

বিদেশ থেকে দেশে এসেছেন ২৬ হাজার ৮৪৩ জন

সিলেটের সকাল রিপোর্ট ।। প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট বিভাগের চার জেলায় রোববার পর্যন্ত ২৬ হাজার ৮৪৩ জন প্রবাসী দেশে ফিরেছেন; তবে তাদের মধ্যে সঙ্গনিরোধে (হোম কোয়ারেন্টাইন) আছেন মাত্র ১৭শ’ ৪৭ জন। এদের মধ্যে আবার অনেকেই মানছেন না আদেশ, ফলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে অনেককে জরিমানার মুখোমুখিও হতে হয়েছে।

সর্বশেষ রোববার বিভাগের চার জেলায় আরও ৩১৮ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা মানুষের সংখ্যা এক হাজার ৭৪৭ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৭১৮, সুনামগঞ্জ জেলায় ২০৮, হবিগঞ্জ জেলায় ৩৩১ এবং মৌলভীবাজার জেলায় ৩৮৩ জন হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। প্রবাসী ছাড়াও তাদের স্বজনরাও রয়েছেন এ তালিকায়।

তবে এ কয়দিনে প্রায় ২৭ হাজার প্রবাসী সিলেট আসলেও হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকাদের সংখ্য খুবই নগন্য হওয়ায় করোনা সংক্রমণ আতঙ্কে রয়েছেন জনসাধারণ। তারা বলছেন, প্রবাস ফেরত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ যদি এ ভাইরাস নিয়ে দেশে আসেন, তাহলে তার অজ্ঞাতেই অবাধে চলাফেরার কারণে তা অন্যদের দেহেও ছড়াবে।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- সবকটি জেলা উপজেলায় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে করোনা প্রতিরোধ সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে প্রবাস থেকে আসাদের নামের তালিকা করা হচ্ছে। এবং তাদেরকে অবাধে চলাফেরা না করতেও নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। আর সম্প্রতি যারা দেশে এসেছেন তাদের তালিকা করে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতেও বলা হচ্ছে। এ নির্দেশ অমান্য কারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানাও করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বড়চতুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হোসাইন চতুলী বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে সম্প্রতি বিদেশ থেকে আসাদের তালিকা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া সবকটি গ্রামের মসজিদে এ বিষয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিদেশ থেকে আগতদের ১৪দিন মসজিদে না আসতেও বলা হয়েছে।’

এদিকে রোববারও সিলেটের  শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিটে নতুন এক ব্যক্তিকে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) রাত পর্যন্ত আইসোলেশনে ছিলেন ৪ জন। রোববার (২২ মার্চ) ভোররাতে যুক্তরাজ্যফেরত ভর্তি ষাটোর্ধ্ব নারী মারা গেলে এ সংখ্যা নেমে আসে তিনজনে। তবে রোববার দুপুরে আরেকজনকে হোম কোয়ারেন্টিন থেকে হাসপাতালে আনা হলে তা আবারও চারজনে উন্নিত হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আনিসুর রহমান  বলেন, গত ১০ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা এক হাজার ৭৪৭ জনের মধ্যে রোববার ৬৭ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন নতুন ৩১৮ জনসহ এক হাজার ৬৮০ জন হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। এছাড়া রোববার নতুন করে হোম কোয়ারেন্টিনে আনাদের মধ্যে সিলেটে ৪৫, সুনামগঞ্জে ৯৬, হবিগঞ্জে ১২১ ও মৌলভীবাজারে ৫৭ জন।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের বিভাগীয় কার্যালয় গত ১০ মার্চ থেকে কোয়ারেন্টিনের হিসাব রাখছে। যারা বিদেশ থেকে আসছেন, তাদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হচ্ছে।

শেয়ার করুন