শিক্ষাবিদ ব্রি. জেনারেল (অব.) জুবায়ের সিদ্দিকীর দাফন সম্পন্ন

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ব্রিগেডিয়ার জুবায়ের সিদ্দিকীর কবরে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়

সিলেটের সকাল রিপোর্ট ।। সিলেটের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, স্কলার্সহোম শাহী ঈদগাহ ক্যাম্পাসের প্রিন্সিপাল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) জুবায়ের সিদ্দিকীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার যোহরের নামাজের পর নগরের শাহী ঈদগাহ মাঠে তার জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে তাকে শাহী ঈদগাহ সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়। দাফনের আগে তাকে রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করেন সেনা সদস্যরা।

বুধবার ভোরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি —— রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। আজ বাদ যোহর শাহী ঈদগাহ মাঠে নামাজে জানাজাশেষে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে প্রথমে তাঁকে সিলেটের হার্ট ফাউন্ডেশনে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় বিকেলে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকার সিএমএইচ এ। সেখানেই তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে। তাঁর লাশ ঢাকা থেকে সিলেটে নিয়ে আসা হচ্ছে ।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ,কলামিস্ট,স্কলারস হোমস শাহী ঈদগাহর প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.)জুবায়ের সিদ্দিকী মঙ্গলবার গভীর রাতে ঢাকা সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল হইয়াছেন। ( ইন্নালিল্লাহি ———- রাজিউন)। মৃত্যু কালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি স্ত্রী, ৩ কন্যা, ৪ ভাই, ৫ বোনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মঙ্গলবার তিনি শাহী ঈদগাহস্ত বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হলে প্রথমে তাঁকে সিলেট ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নেয়া হয়।পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। ভোর রাতে সেখানেই তাঁর ইন্তেকাল হয়। আজ ২৫ মার্চ বাদ জোহর সিলেট শাহী ঈদগাহে মরহুমের জানাজাশেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

পরে তাকে শাহী ঈদগাহ সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

সেনাবাহিনীর প্রাক্তন চৌকস অফিসার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.)জুবায়ের সিদ্দিকী ৯ মার্চ,১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে বালাগঞ্জ উপজেলার পাঁচপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম শাহ তজম্মুল আলী সিদ্দিকী সিলেটের ঐতিহ্যবাহী দূর্গাকুমার পাঠশালার প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে দি এইডেড হাই স্কুল থেকে এসএসসি ও ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে সিলেট এম.সি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে রেগুলার কমিশন অফিসার পদে পিএমএ কাকুলে যোগদান করেন।১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে আর্টিলারি কোরে যোগ দেন। তিনি মিরপুর স্টাফ কলেজ থেকে পিএসসি, চীনের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ থেকে এনডিইউ এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে মাস্টার্স ইন ডিফেন্স স্টাডিজ ডিগ্রি লাভ করেন। দীর্ঘ ৩২ বছরের সেনাবাহিনীর চাকরি জীবনে তিনি প্রথমে অবিভক্ত পাকিস্তানে এবং স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকুরি করেন।১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর সিলেটের স্কলারর্সহোম কলেজের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আমৃত্যু তিনি এ কলেজের প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি সিলেটের বর্তমান সভাপতি।এছাড়া লায়ন্স ক্লাব অব সিলেটের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ, সিলেটের সাবেক সহ-সভাপতিসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি সমসাময়িক বিষয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকার একজন নিয়মিত কলামিস্ট ছিলেন। তাঁর লিখিত চারটি বই ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে স্মৃতির অলিন্দে,কালের কথামালা, আমার জীবন আমার যুদ্ধ, সময় সংকট ও সম্ভাবনা। তাঁর মৃত্যুতে সিলেটবাসী হারিয়েছে একজন সজ্জন ব্যক্তিকে।

শেয়ার করুন